প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খুলনার মোকামে কমেছে আলুর দাম

খুলনা ব্যুরো: নীলফামারী জেলার নেদুপাড়া গ্রামের আলুচাষি ফজলু মিয়া। ৩৩ বস্তা আলু নিয়ে চার দিন খুলনার মোকামে বসে থেকেও ক্রেতা পাননি। ফজলু মিয়ার মতো দুই শতাধিক চাষি ট্রাকবোঝাই করে আলু নিয়ে এসেছেন খুলনার কদমতলা মোকামে। প্রতিদিন খুলনার তিন মোকামে প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন আলু আসছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দামও কমে গেছে। প্রতি কেজি গ্রানুলা জাতের আলু পাঁচ টাকা ও ডায়মন্ড জাতের আলু কেজি প্রতি ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নীলফামারীর দক্ষিণ দেশিবাই গ্রামের ফয়জার রহমান, কাঁঠালিগ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়, হাফিজুল ইসলাম, আবদুল হাকিম, আজহার উল ইসলামের মতো দুই শতাধিক চাষি চার দিন ধরে বসে আছেন খুলনার কদমতলা মোকামে। সবার মুখে হতাশার ছাপ। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ, বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি। তাও আবার বাকিতে বিক্রি। ২০১৩ সালে আলুর বাজারে ধস নামে। অনুরূপ অবস্থা এবারও। আলুচাষিরা জানান, আশ্বিন থেকে পৌষ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুরে আবহাওয়া ছিল আলু চাষের অনুকূলে। দুই দফা বৃষ্টি হয়েছে। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ ছিল না। ফলে কাক্সিক্ষত আলুর উৎপাদন হয়েছে। চাষিরা বরাবরের মতো এবারও কিছুটা লাভের আশায় নিজেদের উৎপাদিত আলু খুলনার মোকামগুলোতে নিয়েছেন। রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুরের পাশাপাশি রাজশাহী, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ট্রাকবোঝাই হয়ে আলু আসছে। প্রতিদিন খুলনার তিন মোকামে প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন আলু আসছে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা মিলছে না। তাই খুলনার দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্নিমানের কাঁচাবাজারে এবং কদমতলা মোকামের আড়তগুলোতে আলু স্তূপ পড়ে রয়েছে।

কদমতলা মোকামের আড়তদার জবেদ আলী মোড়ল কোম্পানির ব্যবসায়িক পার্টনার গোলাম মোস্তফা মিন্টু জানান, রংপুরের উৎপাদিত গ্রানুলা জাতের আলু প্রতি কেজি পাঁচ থেকে ছয় টাকা এবং ডায়মন্ড জাতের আলু প্রতি কেজি ১২ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। দিন দিন সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মূল্য কমছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০টি ট্রাক প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন আলু নিয়ে খুলনার মোকামগুলোতে আসছে। পাইকারি ব্যবসায়ী আল্লাহর দান ভান্ডারের মালিক খালিদ হোসেন রাজ জানান, এবার উত্তরাঞ্চলে বাম্পার আলুর উৎপাদন হয়েছে। যশোর অঞ্চলেও উৎপাদনের পরিমাণ বেশি। বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রানুলা জাতের আলু কেজি প্রতি চার টাকা ও ডায়মন্ড কেজিপ্রতি ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছেন।

নীলফামারী জেলার নেদুরপাড়া গ্রামের চাষি আজাহারুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ সেই আলু ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হবে না। তিনি দুদিন ধরে কদমতলা মোকামে বসে আছেন। একই গ্রামের চাষি ফজলু মিয়া জানান, আলুর লোকসান কাটাতে তিনি তামাক চাষ করবেন। চৈত্র মাস শেষে একই জমিতে ভুট্টা উৎপাদনের ইচ্ছা রয়েছে তার। তার দেওয়া তথ্যমতে উত্তরের আলুচাষিদের ২০১৩ সালের লোকসানের ঘানি এখনও টানতে হচ্ছে।