প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খুলনায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আমন বীজ

 

 

শুভ্র শচীন, খুলনা: খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় চড়া দামে রোপা আমন বীজ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব এলাকার বীজ ও সার ডিলারের দোকানে ১০ কেজি বীজধানের বিএডিসি নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ নেওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সরকারিভাবে ভিত্তি জাতের প্রতি কেজি বীজধান ৪০ টাকা, প্রতি কেজি প্রত্যায়িত জাতের ধান ৩৫ টাকা ও প্রতি কেজি মানঘোষিত জাতের ধানের দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসাবে ১০ কেজি ওজনের এক বস্তা ধানের দাম দাঁড়ায় ৩৫০-৪০০ টাকা।

চুকনগরের রকিবুল ইসলাম, খোরশেদ আলী, আজিজুর রহমানসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, সোনামণি বীজ ভাণ্ডারের মালিক সোহাগ হোসেন সরদার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে ধানবীজ বিক্রি করছেন। একই অভিযোগ রয়েছে এ বাজারের ডিলার নন্দী ট্রেডার্স ও কৈয়া বাজারের ভাই ভাই বাণিজ্য ভাণ্ডার, আড়ংঘাটার নারায়ণ কৃষি স্টোরের বিরুদ্ধে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় বীজের কোনো সঙ্কট নেই। যদি কোনো ডিলার বীজ সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত দামের বেশি নেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়রা সদরের সাব-ডিলার সততা এন্টারপ্রাইজ, কয়রা এন্টারপ্রাইজ, রিয়া স্টোর, ঝিলিয়াঘাটা বাজারের রায় স্টোর, উত্তর বেদকাশির বতুল বাজারের মেসার্স পুষ্পেন অধিকারী, বড়বাড়ি বাজারের মাসুদ স্টোর, আনিস স্টোর, কাছারিবাড়ী বাজারের পলাশ অধিকারী, প্রভাষ অধিকারী, কাঠমারচরের আরশাদ স্টোর, দক্ষিণ বেদকাশির জোড়শিং বাজারের লিপি স্টোর, ঘড়িলাল বাজারের দুটি সারের দোকান, মহারাজপুরের আজাদ স্টোরসহ বাগালী ও আমাদী ইউনিয়নে উচ্চমূল্যে আমন বীজ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

কয়রা সদরের ডিলার রেজাউল করিম জানান, খুলনায় বিএডিসির অফিস থেকে বীজ আনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়। সে কারণে কৃষকের কাছে বেশি দামে বীজধান বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যান্য ডিলারও জানান, বিএডিসি থেকে চাহিদার তুলনায় কম বীজ সরবরাহ করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন মজুতদার কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে বীজ কেনায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম মিজান মাহমুদ জানান, ডিলাররা কৃষকের কাছ থেকে বীজের দাম বেশি নিচ্ছেনÑএ ধরনের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তিনি মনিটরিং করছেন।