প্রচ্ছদ শেষ পাতা

খুলনায় হচ্ছে প্রথম আধুনিক ‘কর ভবন’

  • ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে হবে ১০ তলা দৃষ্টিনন্দন ভবন
  • প্রথম নিজস্ব ভবন পাচ্ছে খুলনা কর অঞ্চল; থাকবে ওয়ান স্টপ করসেবা
  • থাকবে সোলার সিস্টেম, হবে ৫০০ আসনের মাল্টি পারপাস হল
  • খুলনা কর ভবনকে অন্য কর অঞ্চলের জন্য মডেল হিসেবে নিতে পারে এনবিআর

রহমত রহমান: বাজেটের প্রায় ৮৬ শতাংশ জোগান দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে আয়কর থেকে আসে ৩৫ শতাংশ। চলতি বাজেটেও এ হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে এনবিআরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণনির্ভরতা বাড়লেও কর অঞ্চলের নেই নিজস্ব ভবন। প্রতিটি কর অঞ্চল ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। এনবিআরের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো খুলনায় হচ্ছে ‘খুলনা কর ভবন’। এটি হবে সারা দেশের কর অঞ্চলের মধ্যে প্রথম নিজস্ব, দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক কর ভবন।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ‘খুলনা কর ভবন নির্মাণ’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারি ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। খুলনা নগরীর বয়রায় পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচতলা ভবনটি ভেঙে নতুন করে ভবনের কাজ শুরু হবে। পুরাতন ভবনটি ভাঙতে সহসাই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ২০২২ সালের আগেই কাজ শেষ হবে বলে শেয়ার বিজকে জানিয়েছেন কর অঞ্চল খুলনার যুগ্ম কর কমিশনার মো. মঞ্জুর আলম নিসান।

সূত্র জানায়, খুলনা সদরের বয়রা এলাকায় এক দশমিক ৩৫ একর নিজস্ব জমিতে পাঁচতলা খুলনা কর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার একাধিক ভাড়া বাড়িতে খুলনা কর অঞ্চলের কার্যক্রম চলছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। ভাড়া বাড়ি হওয়ায় আয়করের নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আয়কর মেলা, আয়কর দিবস, আয়কর সপ্তাহ পালনে বেগ পেতে হয়। করদাতাদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘খুলনা কর ভবন’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। খুলনা কর ভবনের মতো দেশব্যাপী সব কর অঞ্চলকে নতুন আঙ্গিকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারে রূপান্তরের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, খুলনা কর অঞ্চলের ২২ সার্কেলের মধ্যে সাতটি সার্কেল অফিস, দুটি রেঞ্জ অফিস, একটি বিভাগীয় প্রতিনিধি কার্যালয়, ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনাল অফিস, কর কমিশনার (আপিল) অফিস, কর আপিলাত রেঞ্জ-১ ও ২, জরিপ রেঞ্জ এবং জরিপ সার্কেল-১ ও ২ সহ মোট ১৯টি অফিস স্থানান্তরের জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের নিজস্ব এক দশমিক ৩৫ একর জমিতে একটি সেমি বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভবন নির্মাণ হবে। ২০১৮ সালের ৬ জুন প্রকল্পের ডিপিপির ওপর পিইসির (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কতিপয় শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পিইসির সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করে। পুনর্গঠিত ডিপিপির প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং মেয়াদ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।
এ প্রকল্পের আওতায় ভবনে থাকবে একটি সেমি বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভবন নির্মাণ (১২ হাজার ১৬৮ বর্গমিটার)। বিদ্যুতের জন্য ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ভবনে এয়ারকুলার, সোলার সিস্টেম, দুই হাজার ৫০০ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ২৯৫ মিটার প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। সারফেস ড্রেন নির্মাণ, বহিঃপানি সরবরাহ, বৃষ্টির পানি ধারণ ও সিকিউরিটির ব্যবস্থা থাকবে। নির্মাণ করা হবে ৫০০ আসনের মাল্টিপারপাস হল। প্রস্তাবিত কর ভবনটি নির্মিত হলে উন্নত কর্মপরিবেশে করদাতারা ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রদানে এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং খুলনা অঞ্চলে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে যুগ্ম কর কমিশনার মো. মঞ্জুর আলম নিসান শেয়ার বিজকে বলেন, গত অর্থবছর খুলনা কর অঞ্চল দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে। এ প্রবৃদ্ধি ৩৩ শতাংশ; যা সারা দেশের কর অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ অঞ্চলের আওতায় প্রতিনিয়ত করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব অফিসকে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় করদাতাদের সঠিকভাবে সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছিল না।

তিনি বলেন, খুলনা কর ভবন হবে শহরের দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি ভবন। এতে ৫০০ আসনের মাল্টিপারপাস হল, কৃত্রিম পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সোলার সিস্টেম থাকবে। নতুন এ ভবনে করদাতাদের জন্য কর সার্কেল, জরিপ, আপিল, ট্রাইব্যুনালসহ ১৯টি অফিস থাকবে। এছাড়া ব্যাংক, পোস্ট অফিসসহ করদাতাদের সেবার জন্য ওয়ানস্টপ সুবিধা থাকবে। খুলনা কর অঞ্চলই প্রথম নিজস্ব এমন আধুনিক ভবন পাচ্ছে। এটি অন্য কর অঞ্চলের জন্য মডেল হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব জমিতে পাঁচতলা ভবনের জন্য পুরোনোটি ভাঙা ও অপসারণে টেন্ডার দেওয়া হবে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..