প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খুলনা ওয়াসার লোকসান কমাতে বাড়ানো হলো পানির দাম

মহসিন হোসেন, খুলনা: খুলনা ওয়াসার মাসিক আয় ১৭ লাখ টাকা। ব্যয় ৮২ লাখ টাকা। আয়-ব্যয়ের এ বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে পানির মূল্য বাড়াচ্ছে খুলনা ওয়াসা। ২০ শতাংশ হারে বর্ধিত এ চার্জ চলতি জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে। নগরবাসী বলছে, পানির চাহিদা না মেটানোর পাশাপাশি কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ওয়াসার এ সিদ্ধান্ত। ওয়াসার বক্তব্য, নিজেদের ব্যয় মেটাতে পানির মূল্য বাড়ানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই তাদের।

খুলনার মানুষের দৈনিক পানির চাহিদা ২৪ কোটি লিটার। তবে ওয়াসার সরবরাহ মাত্র চার কোটি ৮০ লাখ লিটার। চাহিদা মতো পানি না পাওয়ায় অনেক গ্রাহক ইতোমধ্যেই বন্ধ রেখেছেন সংযোগ। এসব গ্রাহক ব্যক্তিগত নলকূপ অথবা বিকল্পভাবে কোনো উৎস থেকে পানি ব্যবহার করছেন। যারা ওয়াসার পানি পাচ্ছেন তারাও অনিয়মিত। সময়মতো পানি না পাওয়া, প্রয়োজনীয় পানি না থাকা, প্রায়শই পানিতে ময়লা আর দুর্গন্ধ; এসব নিয়েই খুলনা ওয়াসার পানি। সে কারণে পানির সমস্যা না মিটিয়ে পুনরায় মূল্য বাড়ানোর খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ শেয়ার বিজকে জানান, দুই বছর আগে ওয়াসার বোর্ড সভায় শতকরা ৪০ ভাগ পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন আমরা ২০ ভাগ বাড়িয়েছিলাম। এবছর আবার ২০ ভাগ বাড়ানো হয়েছে। কামাল উদ্দিন বলেন, খুলনার আশপাশে যেমন যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা পৌরসভা যে হারে পানির দাম নেয়, আমরা তার চেয়ে অনেক কম দামে পানি দিয়ে থাকি। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তুলনা করলেও চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর চেয়ে খুলনার পানির দাম অনেক কম। এজন্য সরকার ওয়াসাকে চাপ দিচ্ছে পানির দাম বাড়িয়ে খরচের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য। কিন্তু আমরা গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে এক সঙ্গে পানির মূল্য বেশি না বাড়িয়ে দুই কুলই রক্ষা করছি। গ্রাহকও যাতে বাঁচে আবার সরকারকেও যাতে বোঝাতে পারি যে বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে আধা ইঞ্চি ব্যাসের মাসিক সংযোগ ফি ৫৪ টাকার জায়গায় করা হচ্ছে ৬৪ টাকা ৮০ পয়সা। এক ইঞ্চিতে ২৪০ টাকার স্থলে ২৮৮, দেড় ইঞ্চিতে এক হাজার ৪৪০ টাকার জায়গায় এক হাজার ৭২৮ এবং দুই ইঞ্চিতে দুই হাজার ৪০০ টাকার স্থলে দুই হাজার ৮৮০ টাকা হয়েছে। এছাড়া যারা মিটার ব্যবহার করেন তারাও দাম বাড়ার আওতায় আসবেন। আগে মিটারে এক কিউবিক লিটার বা এক হাজার লিটার পানির দাম ছিল চার টাকা ৮০ পয়সা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ টাকা ৭৬ পয়সা। অর্থাৎ শতকরা ২০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে পানির দাম। বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর আগে যেমন গণশুনানি হয় পানির দাম বাড়ার ব্যাপারে নগরবাসী সঙ্গে কোনো আলোচনা কিংবা মতবিনিময় হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুতের মূল্য কেন্দ্র থেকে বাড়ানো হয়। কিন্তু ওয়াসার পানির দাম বাড়ানো হয় বোর্ড সভায়। তাছাড়া এ দাম বাড়ার দুই বছর আগেই করা হয়েছিল। এখন শুধু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  বর্তমানে ১৭ হাজার গ্রাহক নিয়মিত পানি পাচ্ছেন। এ সংখ্যা ৭৫ হাজারে বাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে খুলনা ওয়াসার।

খুলনা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ শেয়ার বিজকে  বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানোর কথা। সে হিসেবে খুলনা ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর গত ৮-৯ বছরে মাত্র একবার পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার দ্বিতীয়বার বাড়ানো হলো। পানির দাম বাড়ানোর কারণে মাসিক আয় ১৭ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ ৫০ হাজার হবে। তারপরও আয়-ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ঘাটতি থেকে যাবে, যা ধীরে ধীরে গ্রাহক সংখ্যা বাড়িয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হবে।