প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খুলনা-শিপইয়ার্ড চার লেন প্রকল্প

জমি অধিগ্রহণে জটিলতার জন্য অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন যে কী কঠিন হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। জনবহুল এদেশে জমির অভাবের কথা সবারই জানা। কল-কারখানা প্রতিষ্ঠায়ও উপযুক্ত জমি পেতে নানা সমস্যা উপস্থিত হতে দেখা যায়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও জমি পেতে সমস্যার কথা বলে থাকেন। তারা চান নিষ্কণ্টক জমি। আর সব শর্ত পূরণ করতে পারলেও দেখা যায় নির্দিষ্ট উদ্যোগের জন্য উপযুক্ত জমি জোগানো যাচ্ছে না। সরকার নিজেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ভোগে জমি অধিগ্রহণের জটিলতায়। এ ধরনের সমস্যার চাপে প্রকল্প ঝুলে পড়ার ঘটনাও রয়েছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা যুক্ত হলে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তিত হয়ে যেতেও দেখা যায়। তাতে শুধু কালক্ষেপণ হয় না, প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

গতকালের শেয়ার বিজে এমন খবর বেরিয়েছে যে, খুলনা-শিপইয়ার্ড চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়নে চার বছর পর জমি বুঝে পেল কেডিএ (খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। একনেকে অনুমোদিত এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুনে। বাস্তবে চার বছরে কাজটি শুরুই করা যায়নি। এর পরিণতিতে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়াতে হয়। দুই লেনের সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য কয়েক একর জমি অধিগ্রহণ নিয়েই দেখা দেয় জটিলতা। স্থানীয়দের আন্দোলন, মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদি মোকাবিলা করতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে গৃহীত সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করেই ওই ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছিল। তা সত্তেও জটিলতা উপস্থিত হওয়া বিচিত্র নয়। জমি যেখানে অত্যন্ত মূল্যবান, সেখানে কেউ তা সহজে ছাড়তে চায় না। এক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিয়ে সন্দেহ-অবিশ্বাসের পরিস্থিতিও রয়েছে। আমাদের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরেও প্রকাশ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের অভিযোগ। আমরা আশা করব, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা অবসানের পর ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোনো রকম জটিলতা রাখবে না কর্তৃপক্ষ। চার লেনের জন্য সড়ক প্রশস্তকরণে জমি তৈরি করতে কিন্তু আরও সময় লাগবে। স্থাপনা অপসারণ করে ঠিকাদারদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর ভৌত কাজ শুরু করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও নাকি নিতে হবে নতুন করে।

যে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে এত দেরি হয়ে গেল, তার ভৌত কাজ শুরু করতে কোনোভাবেই যেন আর দেরি না হয়। নিশ্চয়ই অনেক বিচার-বিবেচনা করেই গ্রহণ করা হয়েছিল প্রকল্পটি। জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ভিন্ন আর কোনো সমস্যা বা সরকারের কোনো দ্বিধা এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। বিলম্বের জন্য প্রকল্পটি বাতিলও করেনি সরকার। সুতরাং খুলনা-শিপইয়ার্ড চার লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুততার সঙ্গেই এগিয়ে নিতে হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নে এটা কাজে লাগবে বলেই আমরা মনে করি।