খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সাতক্ষীরার গাছিরা

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: হেমন্তের শেষে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুত সাতক্ষীরার গাছিরাও। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, লবণ পানির আগ্রাসন ও জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় পোড়ানোর কাজে অবাধে ব্যবহারের ফলে হ্রাস পাচ্ছে খেজুর গাছ। এর মধ্যে যেগুলো আছে তাই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

সারা বছর অবহেলিত খেজুর গাছগুলোকে ঝুড়ে নতুন রূপ দেন তারা। এর রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি ও নানা শীতকালীন পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। এখানকার খেজুরের গুড় ও পাটালির বিভাগীয় শহরসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে নলেন গুড়ের সন্দেশ ও প্যাড়া মিষ্টি দেশজুড়ে বিখ্যাত।

গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য শুরু করেছেন প্রাথমিক পরিচর্যা। স্থানীয় ভাষায় একে গাছ তোলা বলা হয়। এর সপ্তাহখানেক পর চাছ দিয়ে কঞ্চির তৈরি নালী ও কাঠি লাগানো হয় রস আহরণের জন্য। রস বের করতে তিন স্তর পেরিয়ে ১৫ দিন পর থেকে রস আহরণ শুরু হয়। এখন চলছে খেজুর গাছ চাছার কাজ।

তবে গাছ সংকটের কারণে চলতি বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন অনেক গাছি। আম্পান ও ইয়াসের আঘাতে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার কারণে গাছের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকায় কথা হয় খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি ইয়াছিন আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি শীত শুরুর আগে গাছ বর্গা নিয়ে থাকি। এবারও প্রায় অর্ধ শতাধিক গাছ বর্গা নিয়েছি। দিন দিন খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সব মিলে প্রতি বছর শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস, গুড় ও পাটালির চাহিদা ঠিকই থাকে। তবে গাছ পাওয়ায় পাওয়ায় দাম থাকে তুলনামূলক চড়া। তবু এর স্বাদ নিতে ভুল করেন না মানুষ। প্রথম ধাপে কাঁচা রস প্রতি মাটির ভাড় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে থাকে। আর পাটালি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চল থেকে খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের গাছ কাটার কাজটি একটি শিল্প। এ জন্য শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

খেজুর রসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে খেজুর গাছ রক্ষাসহ নতুনভাবে রোপণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৭৮  জন  

সর্বশেষ..