মার্কেটওয়াচ

খেলাপিদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে

জাতীয় সংসদে প্রায় আট হাজার ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঋণ নিয়েছেন এবং টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এখন তারা ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তারা দেশের ক্ষতি করছেন; আবার বড় বড় জায়গায় দায়িত্বও পালন করছেন। এসব ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আকতার হোসেন সান্নামাত, এফসিএ ও সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এমএস সেকিল চৌধুরী।

আকতার হোসেন সান্নামত বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রী আসার পর তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে কেউ অর্থ পাঠালে তাদের দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা  দেওয়া হবে। এর ফলে এবার আট শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছে। আশা করি সামনেও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে এখন রপ্তানিসহ অন্যান্য সূচকও নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। আসলে এখানে কিছু কারণ রয়েছে। এখন রপ্তানি নিয়ে আমেরিকা, ইউরোপ এবং চীনও মন্দা অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ভারতে রপ্তানির মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর এ নেতিবাচক প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। অর্থাৎ, প্রভাব পড়তেই পারে। সাময়িক সময়ের জন্য দেশের রপ্তানিসহ অন্যান্য সূচক নেতিবাচক দেখা যাচ্ছে। তবে এর বিপরীত বিষয় নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে কীভাবে এ  সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়।

এমএস সেকিল চৌধুরী বলেন, গত ছয় মাসে রেমিট্যান্স বেশ বেড়েছে। রেমিট্যান্স বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে ডলারের দাম বাড়া এবং প্রবাসীদের দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া। প্রবাসীরা এক লাখ টাকা পাঠালে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা পাবেন। ফলে তাদের মধ্যে একটি উৎসাহ জেগেছে এবং তারা বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। যারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের মধ্যে বেশিই সাধারণ শ্রমিক। এতে তাদের কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা অবশ্য যথেষ্ট নয়। তাই এ দুই শতাংশ প্রণোদনা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা ভাবতে হবে। কিন্তু দেশের ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ও দেওয়া হচ্ছে। এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে প্রবাসীরা কীভাবে আরও রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সেদিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, প্রবাসীরা দেশের সঙ্গে কখনও প্রতারণা করবেন না। আসলে দেশের সঙ্গে প্রতারণা করে রাঘব বোয়ালরা।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাত এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। যারা এ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের প্রত্যেক জায়গায় নৈতিকতার অনেক ঘাটতি রয়েছে। যদি ব্যাংকগুলোর সঠিকভাবে জবাবদিহি নেওয়া হয়, দেখা যাবে অনেক ব্যাংকই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কথা হচ্ছে, ব্যাংক খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়লে পুঁজিবাজারও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কারণ, মানি মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেট একে ওপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার ব্যাংক খাত ও ক্যাপিটাল মার্কেটের ক্ষতি হলে পুরো অর্থনীতির ক্ষতি হবে। জাতীয় সংসদে প্রায় আট হাজার ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঋণ নিয়েছেন এবং টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ফলে এখন তারা ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তারা দেশের ক্ষতি করেছেন; আবার বড় বড় জায়গায় দায়িত্বও পালন করছেন। এসব ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে ও শাস্তি দিতে হবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..