সম্পাদকীয়

খেলাপি ঋণ এড়াতে নিয়মিত তদারকি করা হোক

খেলাপি ঋণ আমাদের ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা। এটি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণের বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা বলে আসছেন। এটি ঠিক, খেলাপি ঋণ রাতারাতি কমে যাবে না। তবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সাধারণ মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠছিল, কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘চট্টগ্রামে ঋণখেলাপি: ২০১৯ সালে ৫৬৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা’ শীর্ষক প্রতিবেদন তাদের হতাশ করবে বলেই ধারণা। খবরে জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি পাওনা আদায়ে ৫৬৬টি মামলা করে। এসব মামলার বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনার পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে গেলে লোকসানে পড়ে গ্রাহক খেলাপি হতেই পারেন। এ ঝুঁকি নিয়ে এবং গ্রাহকের দেওয়া তথ্যে সন্তুষ্ট হলেই ঋণ দেয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। অবশ্য ঋণ নিয়ে আত্মসাতের দৃষ্টান্তও আছে। ‘ইচ্ছাকৃত’ বা ‘স্বভাবজাত’ খেলাপিদের শনাক্ত করা কষ্টসাধ্য। তবুও খেলাপিদের ব্যাংক কর্মকর্তারা জানেন। কারণ কোনো ঋণ এক দিনে খেলাপিতে পরিণত হয় না। ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হলেই ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণগ্রহীতাকে তাগিদ দেন। ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নিজস্ব নিয়মে খোঁজখবর নেন। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃত খেলাপি, নাকি প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্তÑব্যাংক কর্মকর্তাদের তা জানার কথা। সৎ ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হয়রানি না করে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঋণখেলাপি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়বেই।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঋণ ব্যবস্থাপনা নজরদারি করলে খেলাপি ঋণ কমবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া প্রমাণ করে, নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটর করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বড় ঋণ নিয়ে উধাও হন কেউ কেউ। ব্যাংক কর্মকর্তারাও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীদের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া কেউ খেলাপি হতে পারে না। মামলা করেও এ ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না। কারণ ঋণগ্রহীতারা প্রভাবশালী, তারা নিয়োগ করেন ডাকসাইটে আইনজীবী। অর্থঋণ আদালতে নিষ্পত্তি হলেও এর বিরুদ্ধে আপিলের পর মামলাগুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে।

ব্যাংকের মূল সম্পদই হলো ঋণ, অথচ খেলাপি ঋণে নাকাল ব্যাংকগুলো। বিদ্যমান অর্থঋণ আইন খেলাপি ঋণ আদায়ে যথেষ্ট বলেই বিবেচিত। অর্থ লোপাটের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সদিচ্ছা থাকলে এবং সব ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করলে খেলাপি ঋণ বাড়তে পারে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..