মত-বিশ্লেষণ

খেলাপি ঋণ ও মামলাজট আর্থিক খাতের ভিতকে দুর্বল করে

মো. জিল্লুর রহমান: ব্যাংক হলো এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ করে পুঁজি গড়ে তোলে এবং সেই পুঁজি উদ্যোক্তাদের ধার দিয়ে বিনিয়োগে সাহায্য করে। উদ্যোক্তরা সে অর্থ গ্রহণ করে ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বিনিয়োগ করে থাকে। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও ব্যাংক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করে থাকে। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করে তা ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করাই ব্যাংকের মুখ্য কাজ।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তরা ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ বা ঋণ গ্রহণ করে অনেকেই সময়মতো পরিশোধ করে না। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার জন্য এসব টাকা আটকে যায়। ব্যাংক টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা করে থাকে এবং একসময় উপায়ান্তর না দেখে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তা পরিশোধ না করার ক্ষেত্রে কিছু গ্রাহকের অন্যতম প্রধান অস্ত্রই হলো মামলা। অর্থাৎ নানা কাজে ব্যাংক থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে, কিন্তু পরিশোধের ক্ষেত্রে সামনে আনা হচ্ছে নানা অজুহাত। এক্ষেত্রে অর্থ উদ্ধারে ব্যাংক মামলায় গেলেও তার সুরাহায় কেটে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। আর মামলাকেই অর্থ আটকে রাখার অস্ত্র হিসেবে নিয়েছে একশ্রেণির ঋণগ্রহীতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মামলার জালে আটকে আছে ব্যাংকের প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে মামলাগুলোর ফয়সালা করা দরকার এবং শুধু ব্যাংকের মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা উচিত। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আলাদা বেঞ্চ গঠন না করলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককেই উদ্যোগ ও তৎপর হতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ ব্যাংক খাতের ঋণ স্থিতি ছিল ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ খেলাপি। খেলাপি ঋণের মধ্যে ৪২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। আর বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা ও বিদেশি ব্যাংকের ৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাম্প্রতিক আরেক তথ্যে জানা যায়, আদালতে বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং এসব মামলার বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক  প্রতিষ্ঠানগুলোর ২ লাখ ৫১ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা আটকে আছে, যা সর্বশেষ খেলাপি ঋণের প্রায় তিনগুণ এবং এই টাকা সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদায় করা রাজস্ব আয়ের চেয়েও বেশি। প্রতিবেদনটিতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক খাতের মামলার সংখ্যা ও এর সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে মূলত চার ধরনের মামলার কথা বলা হয়েছেÑরিট মামলা, অর্থঋণ মামলা, সার্টিফিকেট মামলা এবং দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলা। সাধারণত যেসব খেলাপি ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা কম থাকে, সেগুলো আদায়ের জন্যই ব্যাংকগুলো আদালতে মামলা করে থাকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, ১ লাখ ৫২ হাজার ৬২৬টি। আবার এই সার্টিফিকেট মামলায় জড়িত টাকার পরিমাণও সবচেয়ে কম, ২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬০ হাজার ৯৭৩টি এবং এসব মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। রিট মামলা আছে ৫ হাজারটি যার বিপরীতে জড়িত টাকার পরিমাণ ৩৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলা রয়েছে ৫৮ হাজার ৪৯৫টি এবং এসব মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৮৪ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।

নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হলেও, গতি পায় না লাখ লাখ মামলা। বছরের পর বছর পার হয় কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি হয় না। দীর্ঘসূত্রতায় হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অনাদায়ী থেকে যায়। আর এ মামলা পরিচালনার জন্য ব্যাংকের খরচ বেড়ে গিয়ে ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হয় জটিলতা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকে আছে, তবে পরিমাণের দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এ অর্থ সবচেয়ে বেশি। ব্যাংকারদের দাবি, নানা উদ্যোগ আর দক্ষ আইনজীবী নিয়োগেও সুফল মিলছে না। মামলার সংখ্যা বেশি থাকায় নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে। আর ফাঁক ফোকর ও আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির খেলাপি গ্রাহক ও তাদের আইনজীবী। সমস্যা সমাধানে আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করা হয়। এছাড়া রিট নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠনের পরামর্শও উঠে আসে।

আসলে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করায় ব্যাংক খাতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। দফায় দফায় ঋণ পুনঃতফসিলের পরও আদায় না হওয়ায় পরিণত হচ্ছে মন্দ ঋণে। আদায়ে বাধ্য হয়ে মামলা করছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু বছরের পর বছর মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ব্যাংকের আদায়ও থেমে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে সার্বিক কর্মকাণ্ড। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে ব্যয় বাড়ছে। ফলে একদিকে যেমন তারল্য সংকট তৈরি করছে, অন্যদিকে এর প্রভাবে ব্যাংকে আয় কমে গিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ভিত ক্রমান্বয়ে দুর্বল হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্প ও এসএমই খাতে ঋণের প্রবাহ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের কাছে ৭৯ হাজার ৭৮২টি মামলার বিপরীতে আটকে আছে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ১৩৬টি রিট ও অর্থঋণ মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৬৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এছাড়া এই ছয় ব্যাংকের ৫৯ হাজার ৬৪৬টি সার্টিফিকেট, দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৪০ হাজার ২২ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংকে রিট ও অর্থঋণ মামলায় জড়িত অর্থই প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সার্টিফিকেট, দেউলিয়া ও অন্যান্য মামলায় এ দুই ব্যাংকের জড়িত অর্থ ৩২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এ ছাড়া চার ধরনের মামলায় বেসিক ব্যাংকের ১১ হাজার ৯২০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ১১ হাজার ৩৫০ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৯ হাজার ৩৫ কোটি এবং বিডিবিএলের ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

একসময় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা সব ধরনের মামলায় জড়িত টাকার পরিমাণ বেশি থাকত রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও সরকারি ব্যাংকগুলোর। এখন তাদের চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বেশি টাকা আটকে আছে, যার পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা এবং মামলার সংখ্যা ৬৪ হাজার ৮৬০টি। ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণ বিতরণে যথেষ্ট সতর্কতার অভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বেশি টাকা আটকে যাচ্ছে, মামলার সংখ্যাও বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট ৩৮টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে তিনটিরই আটকে আছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। এবি ব্যাংকের ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা ও পদ্মা ব্যাংকের ৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। তবে সবচেয়ে কম অর্থ নতুন প্রজšে§র মধুমতি ব্যাংকের মাত্র ৪৩ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকের বাইরে ২৮টি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলাসংখ্যা ১৭ হাজার ২৩৩টি এবং এর বিপরীতে আটকে আছে ১০ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অর্থঋণ আদালতের মামলার জট কমাতে আন্তরিক সরকার এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উপায় বের করতে আইন কমিশন কাজ করছে। সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ আটকে আছে অর্থঋণ আদালতে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় দেশে অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা খুব কম। বিচারক সংখ্যাও যথেষ্ট নয়। রয়েছে দক্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর অভাব। ফলে প্রতিনিয়ত অর্থঋণ আদালতের মামলাজট তৈরি হচ্ছে। অনেকে আইন সংস্কারের কথা বললেও অর্থঋণ আইনের সংস্কার জরুরি নয়। কারণ, আইনে মামলা নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া আছে। কিন্তু আইন না মানা এবং এর দুর্বলতার কারণে এমনটা হচ্ছে। এজন্য আইন সংস্কার না করে কার্যপদ্ধতি সংস্কার করা দরকার। অর্থনীতিবিদদের মতে, মামলাগুলো নিষ্পত্তির ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ থাকলে ভালো হতো। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিলেও কোনো উপায় বের করতে পারে। এতে ব্যাংক ও সরকার উভয়ই উপকৃত হবে।

ব্যাংকগুলোর মন্দঋণ বেড়ে যাওয়ায় আয় কমে যাচ্ছে। কারণ মন্দ ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। আর প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয় ব্যাংকগুলোর আয় খাতের অর্থ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য মতে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ শেষে মন্দ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো ৬৩ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে। যদিও  প্রকৃত পক্ষে সংরক্ষণ করার কথা ছিল ৬৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। এর বাইরে সুদ আয় স্থগিত করে রাখা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

অনেক বড় গ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করছে না। আবার তাদের ঋণখেলাপিও বলা যাবে না। কারণ, ঋণখেলাপি হলে আর নতুন করে ঋণ নিতে পারে না। নানা প্রভাব খাটিয়ে ও উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করে তারা বছরের পর বছর ঋণ পরিশোধ না করেও কাগজে-কলমে নিজেদের নিয়মিত রাখে। কেউ ডাউন পেমেন্ট না দিয়ে ঋণ নবায়ন করে। কেউবা কাগজে-কলমে পরিশোধ দেখিয়ে ঋণ নিয়মিত রাখে। এভাবে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আড়াল হয়ে যাচ্ছে। আবার যেটুকু খেলাপি ঋণ দেখানো হচ্ছে তার মধ্যে সিংহভাগই মন্দ ঋণ বা আদায়-অযোগ্য ঋণ।

অনেক ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের পরিবর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দিতে আগ্রহী বেশি। ফলে ব্যাংকের বৃহৎ ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের কাছে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে বেশিরভাগ ব্যাংকের পরিচালক ব্যবসায়ী। তাদের অনেকে আবার আইন প্রণেতাও বটে। আইনের বেড়াজালে তারা নিজ ব্যাংক থেকে বাড়তি ঋণ নিতে পারেন না। ফলে যোগসাজশ করে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করায় ঋণের একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে ব্যাংক পরিচালকদের পকেটে। আর যেটুকু থাকছে, তারও বড় একটি অংশ যাচ্ছে সুবিধাভোগীদের কাছে। ফলে ব্যাংকের ঋণ একদিকে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে তা আদায় না হওয়ায় মন্দ ঋণে পরিণত হচ্ছে। আর মন্দ ঋণের বিপরীতে শতভাগ সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে গিয়ে কমে যাচ্ছে ব্যাংকের আয়। আয় কমায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাক্সিক্ষত হারে মুনাফা বিতরণ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

মামলাজট ও খেলাপি ঋণের কারণে কমে যাচ্ছে বিনিয়োগ সক্ষমতা। কারণ আমানতের অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়। কম হারে আমানত নিয়ে বেশি মুনাফায় ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণ আদায় না হলেও শর্তানুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সুদে-আসলে আমানতকারীদের পরিশোধ করতে হয়। এভাবে এখন অনেক ক্ষেত্রেই ঋণ আদায় না হওয়ায় নতুন আমানতের অর্থ থেকে মেয়াদপূর্তির আমানত পরিশোধ করতে হচ্ছে। যেখানে ঋণ আদায় হলে ব্যাংকগুলো বেশি হারে বিনিয়োগ করতে পারত। এভাবেই ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা ও আর্থিক ভিত্তি কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে না ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফা। ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনে ব্যাংকগুলোকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।

ব্যাংকার ও মুক্ত লেখক

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..