সম্পাদকীয়

খেলাপি ঋণ কমাতে আরও কঠোর হোন

উদীয়মান দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে আমাদের অর্থনীতির আকার ক্রমেই বড় হচ্ছে। দেশে ব্যাংকের কর্মকাণ্ডেও গতি বেড়েছে। বিশেষত মূলধনের জোগানদাতা হিসেবে ব্যাংকের গুরুত্ব বাড়ছে। অবশ্য বিকল্প তেমন কোনো মাধ্যম না থাকায় এ খাতে নির্ভরশীলতাও বেশি। তবে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে নেই। অনিয়ম-দুর্নীতি আর প্রভাবশালী ও রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপে ধুঁকছে ব্যাংকগুলো। কিছু কর্মকর্তার অদক্ষতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব কারণে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রভিশন ঘাটতি, ঋণ অবলোপন কিংবা পুনঃতফসিলের মতো ব্যাপারগুলো ব্যাংক খাতে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থনীতির স্বার্থে এবং এ খাত রক্ষায় সমস্যাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার বিকল্প নেই।
গতকালের শেয়ার বিজে ‘পুনঃতফসিল সুবিধার প্রভাব নেই: এক লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে বিশেষ ব্যবস্থায় পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনসহ নানা সুবিধা নিলেও ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাসেই এ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ প্রক্রিয়ায় উচ্চহারের খেলাপি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে দেশের ব্যাংক খাত। এভাবে চলতে থাকলে এ খাতটি শিগগিরই বিপর্যয়ে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ঋণখেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা বেশি থাকার নজির বাড়ছে। অথচ ছোট আকারের ঋণখেলাপি হচ্ছে কম, পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। তারপরও বড় ঋণেই আগ্রহ বেশি ব্যাংকগুলোর। আবার ঋণখেলাপি কমাতে নানা পদক্ষেপ ও সুবিধা দেওয়া হলেও তা কাজে আসছে না। এ পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বৈকি। খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরোনো ঋণের পাশাপাশি নতুন গ্রাহকও খেলাপি হয়ে পড়ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া দেওয়া ঋণই খেলাপি হচ্ছে। এ কাজে কিছু অসাধু ব্যাংকারও জড়িত বলে অভিযোগ। যদিও এক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বেশি দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। দেশের আর্থিক খাতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
খেলাপি ঋণ ও সুদহার কমিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। অথচ তারা সুবিধা নিয়েও ঋণ পরিশোধ করছেন না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ভালো ব্যবসায়ী ও ভালো ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও কঠোর ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..