প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া ৬৩ কোটি টাকা

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৬৮ হাজার গ্রাহককে সুপেয় পানি সরবরাহ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার গ্রাহক নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন না, অর্থাৎ মোট গ্রাহকের ৫০ শতাংশের বেশি বিল খেলাপি। এসব গ্রাহকের কাছে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ওয়াসার। তবে বকেয়া অনাদায়ে এরই মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৮০ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ওয়াসার তথ্যমতে, সংযোগ আছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ৬২ হাজার ৭০১। তাদের কাছে সংস্থাটির পাওনার পরিমাণ ৫৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এমন গ্রাহকের কাছে সাত কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। এই হিসাব চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

বকেয়ার কারণ ও আদায় পরিস্থিতি জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল্লাহ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর হতে পারি না। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সুদও মওকুফ করা হয়।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান সময়মতো বাজেট না পাওয়াও একটা কারণ। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের বকেয়া আদায়ের জন্য একটি টিম করা হবে। ওয়াসার এই টিমের সঙ্গে মোবাইল কোর্ট ও আইন-শৃঙ্খালা বাহিনীর লোকও থাকবে। আমরা সধারণত তিন মাসের বকেয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে থাকি। এর অধিক হলে তা অস্বাভাবিক। সেই হিসাবে ২৫ কোটি টাকা বকেয়া থাকলে স্বাভাবিক অবস্থানে থাকত। ৬২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়।’

সূত্র জানায়, ১৬৮ দশমিক ২১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৬৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে দৈনিক ১৭৩ এমএলডি পানি বিতরণ করে ওয়াসা। তাদের মধ্যে সাধারণ গ্রাহকরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিমালিকানার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণে পানির বিল অনাদায়ী রয়েছে। ৩৭ হাজার ৫৩ গ্রাহক ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পানির বিল বকেয়া রেখেছে ৬২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ওয়াসা পানি বিতরণ করে এমন ৩৩ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি গ্রাহক মিলে বকেয়া রয়েছে ৫৪ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া রয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বিল বকেয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ৩২টি এলাকায় পাঁচ হাজার ৩৮০টি। এসব বিচ্ছিন্ন সংযোগের মালিকদের কাছে বকেয়া রয়েছে সাত কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

ওয়াসা সূত্রে আরও জানা যায়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে। চসিকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওয়াসা থেকে পানি সংগ্রহ করে। চসিকের ৯৫টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে পানির বিল বকেয়া রয়েছে ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে বকেয়া রয়েছে সাত লাখ ৪৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৮২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা অনাদায়ী রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘কোস্টাল সি ফুড লিমিটেড’-এর কাছে সর্বাধিক বকেয়া রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বকেয়ার পরিমাণ ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া বনানী কমপ্লেক্সের কাছে ১৫ লাখ টাকা, আফরোজা অয়েল মিলের কাছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, গোল্ডেন ইনের কাছে দুই লাখ ৩৯ হাজার টাকা, সানমার হোটেল লিমিটেডের কাছে চার লাখ টাকা, তাহের তালুকদারের কাছে প্রায় চার লাখ টাকা, রাসেল ভেজিট্যাবল অয়েলের কাছে প্রায় দুই লাখ টাকা, শফিকুল ইসলামের কাছে প্রায় চার লাখ টাকা, আবদুল হাসেমের কাছে তিন লাখ টাকা, হিরো সাইকেল লিমিটেডের কাছে আট লাখ টাকা, স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টারের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা ও হোটেল প্রেসিডেন্টের কাছে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা-সহ ৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।