দিনের খবর সর্বশেষ সংবাদ

খেলার সামগ্রী বলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি হয় ক্যাসিনোর মেশিন

# পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ ও এ-থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে তলব

# সব মেশিন মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি হয়েছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা

# ক্যাসিনোর নামে যারা টাকা পাচারকারীদের তদন্ত শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা

রহমত রহমান: ক্যাসিনোর নামে ডিজিটাল জুয়া খেলায় ব্যবহৃত হয় রোলেট, স্লটের মতো দামি মেশিন। প্রতিটি মেশিনের দাম প্রায় অর্ধ কোটি থেকে দুই বা আড়াই কোটি টাকা। খেলার সামগ্রীর নামে শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় বছরের পর বছর এসব মেশিন আমদানি হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কোন প্রতিষ্ঠান কিভাবে এসব মেশিন আমদানি করেছে তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। একই সাথে ক্যাসিনো থেকে অবৈধভাবে আয় করা অর্থপাচার হয়েছে কিনা, কারা পাচার করেছে তাও খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ক্যাসিনোর নামে জুয়ায় প্রতি রাতে হাজার হাজার খেলা হয়। খোদ রাজধানীতে চলছে ৬০টি ক্যাসিনা। সরকারকে এমন স্পর্শকাতর তথ্য দেয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় ১৪২ জনকে। উদ্ধার করা হয় ক্যাসিনোর রোলেট, স্লট মেশিন, জুয়ার গুটিসহ অন্যান্য সামগ্রী। একইদিন রাজধানীর আরও কয়েকটি অভিজাত ক্লাবে অভিযান চলে। পর্যায়ক্রমে গত কয়েকদিন রাজধানীসহ সারাদেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাসিনোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাসিনোর দামি মেশিন ও খেলার সামগ্রীর সন্ধান পায়। এত মেশিন সঠিকভাবে শুল্ককর পরিশোধ করে এসব মেশিন আমদানি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। অবশেষে সরকারের নির্দেশে এনবিআর কাজ শুরু করেছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এসব মেশিন আমদানি করেছে, শুল্ককর পরিশোধ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরকে নির্দেশ দেয় এনবিআর। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে সংস্থাটি কাজ শুরু করে।

সূত্র আরও জানায়, ক্যাসিনোতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার খেলা হতো। ক্যাসিনোতে যারা জুয়া খেলতো বেশিরভাগই অর্থ অবৈধভাবে আয় করা। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ব্যক্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। তবে বেশিরভাগ ব্যক্তি ক্যাসিনোতে আয় করা টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলেও তথ্য পেয়েছে। এনবিআরের নির্দেশে কাস্টমস গোয়েন্দা সে বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে। কারা এসব অর্থের মালিক, কারা জুয়া খেলতো, তাদের আয় কি, আয় থেকে সঠিকভাবে কর দিতো কিনা, টাকা পাচার করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। ইতোমধ্যে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং জুয়ার নামে অবৈধ লেনদেন হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দার একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল থেকে খেলার সামগ্রী আমদানি বিষয় খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। ইতোমধ্যে দুইটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠান দুইটি হলো-রাজধানীর ১৮, সাউথ কমলাপুর এলাকার পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ ও প্লট-৪০, মেইন রোড, মোহাম্মদী হাউজিং লিমিটেড এলাকার এ-থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর পুষ্টিতা এন্টারপ্রাইজ রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেইম, ক্যাসিনো ওয়ার গেইম টেবিল আমদানি করেছে। এছাড়া এ-থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল খেলার সামগ্রী আমদানি করেছে। দুইটি প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে ক্যাসিনোর খেলার সামগ্রী আমদানি করেছে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা। দুইটি প্রতিষ্ঠানকে তলব করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। আজ দুইটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাস্টমস গোয়েন্দায় হাজির হতে গতকাল চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ দুইটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা। এসব তথ্য যাচাই করে দেখছে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান খেলার সামগ্রী আমদানি করে সেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ খেলনার আড়ালে এসব মেশিন আমদানি করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেজন্য কাস্টমস হাউস থেকে খেলনা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়াও ক্যাসিনো থেকে এসব মেশিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ বা কারা, কিভাবে এসব মেশিন আমদানি করেছে তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। শুল্ককর ফাঁকি হয়েছে কিনা তা সহসাই বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, ক্যাসিনোর মেশিনসহ খেলার বেশিরভাগ সামগ্রী চীন থেকে আমদানি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশ থেকে এসব মেশিন আমদানি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে চমকপদ তথ্য দেওয়া যাবে। অর্থপাচারের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোতে জুয়ায় টাকা লগ্নিকারী ব্যক্তিদের আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ..