সম্পাদকীয়

খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা বহির্ভূত কার্যক্রম অপ্রত্যাশিত

নতুন উদ্যোক্তাকে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করে ব্যবসা শুরু করতে হয়। প্রথমে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস-এ নতুন কোম্পানি নিবন্ধন করাতে হয়। কোম্পানি আইন ও অন্যান্য বিধি অনুসারে এটি কোম্পানি, সমিতি ও অংশীদারি  প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দিয়ে থাকে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির জন্য পৃথক নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে স্থানীয় সরকার পরিষদের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্সও সংগ্রহ করতে হয়। ব্যবসার ধরন বুঝে মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই, পরিবেশ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংস্থা থেকেও সনদের প্রয়োজন হতে পারে। আবার বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নতুন কোনো পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণেও বিধি অনুসরণ করতে হয়।

আইপিওর মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করারও প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে অথবা উভয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

উৎপাদিত কিংবা বাজারজাত করা পণ্যে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রতারিত হতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বঞ্চিত হতে পারেন। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানও। প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচারসহ দেশিবিরোধী কার্যক্রমও সংঘটিত হতে পারে। অনিয়ম অন্যায়ের প্রতিবিধানের জন্য জনস্বার্থে সব দেশেই ব্যবসা পরিচালনা এমন কিছু নিয়ম রয়েছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সেসব নিয়ম মেনেই ব্যবসা করতে হয়।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন না, এমনই সাধারণ মানুষের ধারণা। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ঘোষণা ছাড়াই ভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণে বার্জার’ শীর্ষক প্রতিবেদন ওই ধারণাকে পোক্ত করবে।

খবরে বলা হয়েছে, পূর্বঘোষণা ব্যতিরেকে ব্যবসা ভিন্ন খাতে সম্প্রসারণ শুরু করেছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিপণন শুরু করলেও বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো হয়নি। যদিও আইনে এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ব্যক্তিগত সুরক্ষার অন্যতম পণ্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিপণন শুরু করেছে। ‘বার্জার মি. এক্সপার্ট অ্যাডভান্সড হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ বিষয়ে বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায়নি বার্জার। এমনকি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হওয়ার পরও তা প্রকাশ বা ডিএসই থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দেশের পুঁজিবাজারে ২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক এই কোম্পানির কোনো ব্যাংকঋণ নেই। লাভজনক কোম্পানি হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা রয়েছে বার্জারের শেয়ারে। বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রেখে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থার চিড় ধরাবে। বার্জারের কর্ণধাররা সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই নতুন পণ্য বাজারজাত করা নিয়মের পরিপন্থি। খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হোক। কিন্তু তাদের দেশের আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..