বিশ্ব সংবাদ

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় হুমকি চীন

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধানের মন্তব্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় হুমকি চীন। গত বৃহস্কতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এক নিবন্ধে একথা লিখেছেন তিনি। র‌্যাটক্লিফের বক্তব্যের বিষয়ে চীন এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। খবর: বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনা পণ্যে শুল্কারোপ ও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব সুদ চুরির অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। করোনা মহামারির জন্য চীনকে দায়ী করে আসছেন ট্রা¤‹। এছাড়া হংকং, উইঘুর মুসলিম নিপীড়ন ও চীনে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উভয় দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক ও এবং এফবিআই প্রধান ক্রিস্টোফার রে’র চীনবিরোধী কিছু মন্তব্য র‌্যাটক্লিফের লেখাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া এ নিবন্ধ এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে চীন।

‘চীন জাতীয় নিরাপত্তার এক নম্বর হুমকি’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে র‌্যাটক্লিফ লিখেছেন, বিশ্ব পুনর্নির্মাণ ও আধিপত্য বিস্তারে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা প্রতিহত করাটা আমাদের প্রজন্মের জন্য চ্যালেঞ্জ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। তারা রাশিয়ার স্থান নিয়ে নিয়েছে।

ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জানান, তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বাকি বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে কর্তৃত্ব ফলাতে চাচ্ছে। র‌্যাটক্লিফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় বিষয়গুলো চুরি করে চীন তার শক্তি বৃদ্ধি করছে। পরে তারা বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা দখল করছে।’ চীনের বিরুদ্ধে ‘চুরি, প্রতিলিপি তৈরি ও প্রতিস্থাপনের’ মাধ্যমে অর্থনৈতিক চরবৃত্তি চালানোরও অভিযোগ তুলেছেন রেটক্লিফ। প্রতিবছর কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মেধাস্বত্ব চুরি যায় বলেও দাবি তার।

যুক্তরাষ্ট্রের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়নকে দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যেন চীনের প্রতি খানিকটা নমনীয় হয়, বেইজিং সে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে।

রেটক্লিফের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক প¤ে‹ও এবং এফবিআই প্রধান ক্রিস্টোফার রে’ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপ চেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। গত বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছানইং পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই চীনবিরোধী নানা রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘এগুলো তারা করছে দৃঢ় দার্শনিক পক্ষপাতিত্ব এবং চীনকে আটকে রাখার কৌশল। চীনে একটা প্রবাদ আছেÑচোখ তা-ই দেখে, মন যা বিশ্বাস করে। আমরা আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে গুপ্তচর হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধ করবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..