Print Date & Time : 6 December 2020 Sunday 3:30 am

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে নগরবাসীকে স্বস্তি দিন

প্রকাশ: May 19, 2019 সময়- 10:29 pm

রাজধানীতে গণপরিবহন ব্যবহার করে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি, এমন মানুষ কমই আছেন। গণপরিবহনে নৈরাজ্য দূরীকরণে কোনো সংস্থা আদৌ সক্রিয়, সেটিও বলা যাবে না। কারণ গণপরিবহন নিয়ে নাগরিক সমস্যা লাঘবের কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়।
প্রতি বছর রমজানে ইফতারির আগমুহূর্তে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীর যাত্রীরা। পরিবর্তিত অফিস সময় অনুযায়ী যানজট, গণপরিবহন সংকটসহ নানা কারণে নগরীর যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি, সেটি উঠে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে। সংগঠনের তিনটি টিম গত সাত দিন রাজধানীর কয়েকটি স্পট পর্যবেক্ষণ করে তৈরি প্রতিবেদনে বলেছে, ৯৮ শতাংশ যাত্রী নৈরাজ্যের শিকার।
যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৭ শতাংশ সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে চলাচল করছে। এতে নগরীর মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজের যাত্রীরা চরম নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। এসব বাস সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছে। আবার সিএনজিচালিত অটোরিকশা শতভাগ চুক্তিতে চলাচল করছে। এতে মিটারের প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল অ্যাপসে না চলে চুক্তিতে বেপরোয়া চলছে।
আমরা মনে করি, যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থাই উঠে এসেছে। এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারীরা হয় গণপরিবহন ব্যবহার করেন না নতুবা কোনো কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি আড়াল করতে চান।
রাজধানীতে চলাচলকারী গণপরিহনগুলো বাস কোম্পানিগুলো বেশি ভাড়া আদায় করছে কি না, এটি নিয়ন্ত্রণ বা তদারকিতে কোনো সংস্থা আছে কি না, সেটিও অনেকে জানে না। আর যারা জানেন, তারা বোঝেন অভিযোগ করে লাভ নেই। যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণেও তা উঠে এসছে হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ কোথায় করতে হয়, তা জানেন না ৯৩ শতাংশ যাত্রী। তবে ৯০ শতাংশ যাত্রী মনে করেন, অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীতে সীমিত আকারে সিটিং সার্ভিস বাস চালু রাখার সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ গঠিত সিটিং সার্ভিসবিষয়ক কমিটি। সুপারিশগুলো আজও কার্যকর হয়নি। বিআরটিএ’র নজরদারিও চোখে পড়েনি।
রাজধানীর গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়ায় সীমিত ও নিন্ম আয়ের লোকজনের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে ট্রান্সপোর্ট কমিশন গঠন যেতে পারে। যেভাবে হোক, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।