সম্পাদকীয়

গণপরিবহন চলাচল নিয়মিত করতে পদক্ষেপ নিন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর যে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়েছিল, সেটি কার্যকরের আগেই সংশোধন করা হয়। আবার বাস্তবায়ন কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধিতায়। সর্বশেষ গত রোববার থেকে এটি কার্যকর হয়। ওইদিন থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যায়।

গত বছর রাজধানীতে বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। এরপর নতুন সড়ক পরিবহন আইন অনুমোদন পায় সংসদে। ওই দুর্ঘটনার পরও রাজধানীতে এমন কিছু সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার দায় এড়াতে পারেন না পরিবহন মালিকরা। কদিন আগেই রাজধানীর বাংলামোটরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীকে চাপা দেয় একটি বাস। এতে আহত ওই নারীর পা কেটে ফেলতে হয়। 

গত বছর সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশে বছরে ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সরকারি হিসাবে এটি মাত্র পাঁচ হাজার। সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও আমাদের গণপরিবহন খাত সর্বাপেক্ষা বিশৃঙ্খলÑএটি পরিবহন মালিক-শ্রমিকরাও স্বীকার করবেন। কিন্তু তারা সংঘবদ্ধভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেন প্রায়ই।

আইন সংশোধনের দাবিতে যশোরের ১৮ রুটে বাস চলাচল বন্ধের খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। এতে বলা হয়, চালক-শ্রমিকদের ধর্মঘটে গতকাল সকাল ১০টার পর যশোর থেকে ১৮ রুটে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি এবং বাইরে থেকে কোনো যাত্রীবাহী বাসও যশোরে আসেনি। এতে যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।

অন্যান্য জেলা থেকেও শ্রমিকদের কর্মবিরতির খবর পাওয়া গেছে। যাত্রীসাধারণকে জিম্মি করে পরিবহন শ্রমিকদের এমন ধর্মঘট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পেছনে কোনো কোনো প্রভাবশালীর মদত রয়েছে, সেটিও অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ বলেই মনে হয়। পরিবহন শ্রমিকরা আইনকে পাশ কাটিয়ে নয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পারতেন। প্রমাণ করতে পারতেন, দুর্ঘটনার জন্য চালক কিংবা সহকারীর দায় নেই। কিন্তু লক্ষণীয় যে, সব সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রমাণ হয় গাড়ির ফিটনেস নেই, চালকের লাইসেন্স নেই। চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন; কিংবা স্টিয়ারিং হুইলে ছিলেন সহকারী।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকারি বা ব্যক্তিগত গাড়ি ও ধীরগতির যান নিয়ম মেনে চলে না। শুধু গণপরিবহনের জন্য নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যভাবে হত্যার জন্য কার্যকর বিচার নেই, সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত বিচার কেন এমন প্রশ্নও তুলছেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ধর্মঘটের সূত্রপাত, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করা যায়, গণপরিবহনের এ অচলাবস্থা নিরসনে কর্তৃপক্ষ আশু পদক্ষেপ নেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..