খবর দিনের খবর

গণপূর্তের ১১ প্রকৌশলীকে দুদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদের তলব করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ঠিকাদার জিকে শামীমের সঙ্গে যুক্ত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে এই ১১ জনের বিরুদ্ধে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে, দুই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রোকনউদ্দিন ও আবদুল মোমেন চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমাকে ১৮ ডিসেম্বর সকালে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ, মোহাম্মদ ফজলুল হক, আবদুর কাদের চৌধুরী ও মো. আফসার উদ্দিনকে ১৯ ডিসেম্বর হাজির হতে বলা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদ, ফজলুল হক ও উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর সরকারকে তলব করা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।

তাদের বিরুদ্ধে জিকে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আছে। তাদের ঘুষ দিয়ে শামীম গণপূর্তের বড় কাজগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন। একই অভিযোগ আছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান মুন্সী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে।

চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’-এর প্রথম থেকে দুদক অবৈধ সম্পদের যে অনুসন্ধান শুরু করেছে, তার অংশ হিসেবে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে গ্রেপ্তার হন কথিত যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল অর্থের মালিক হওয়া, অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ ওঠে।

এদিকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। পরে আরও দুজনকে দলে যুক্ত করা হয়। দলের সদস্যরা হলেনÑউপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সালাউদ্দিন আহমেদ, গুলশান আনোয়ার প্রধান, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী।

অনুসন্ধান দলের সদস্যরা গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম যাচাই-বাছাই করে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন। সংস্থার গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি র?্যাব ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানরা দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেন। সেসব তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এরই মধ্যে ১৬টি মামলা করে দুদক দল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..