কোম্পানি সংবাদ

গত সপ্তাহে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ২৯.০৯ %

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড গত সপ্তাহে দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে সাত দশমিক ৫৬ শতাংশ বা এক টাকা ৭০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২০ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২১ টাকা ৩০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২০ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২২ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে হাতবদল হয়। ওই দিন ৭৩ হাজার ৪১৩টি শেয়ার মোট ১০৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৩ টাকা থেকে ২৩ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে হাতবদল হয়।

কোম্পানির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলো। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছিল এক টাকা ৮২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩৯ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল সাত কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

২০১৫ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ দিয়েছিল, যা আগের বছর ছিল ১০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস। ওই সময় ইপিএস ছিল দুই টাকা ১৫ পয়সা এবং এনএভি ছিল ১৭ টাকা ৪২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৫৩ পয়সা ও ১৭ টাকা চার পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী আয় ছিল আট কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইপিএস হয়েছে ৭৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩১ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৪৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮৫ পয়সা, যা একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ছিল ১৬ টাকা ৩৯ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল তিন কোটি নয় লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট চার কোটি আট লাখ ৭৭ হাজার ৪৯৮টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই’র সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ৩১ দশমিক ৭১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কোটি ২০ লাখ ১৭ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে ২৬ কোটি ৮৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের শেয়ারদর বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি ১১ লাখ ৬৩ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পুরো সপ্তাহে ১০ কোটি ৫৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের আট দশমিক ৮৯ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাত দশমিক ৩৮ শতাংশ, সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির সাত দশমিক ৩৩ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে লিমিটেডের সাত দশমিক ৩২ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের সাত দশমিক ১১ শতাংশ এবং যমুনা ব্যাংকের সাত দশমিক শূন্য সাত শতাংশ দর বেড়েছে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..