সারা বাংলা

গরু বাজার ইজারা নিয়ে বিরোধ, হামলায় একজন মৃত্যু শয্যায়

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালীতে গরু বাজার ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দেলোয়ার হোসেন নামে ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি রয়েছে। মৃত্যু শয্যায় থাকলেও বিচার চেয়ে মামলা করায় সন্ত্রাসীরা খুন করে লাশ গুম করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে আহত ব্যক্তির মা সুফিয়া খাতুন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সাথে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুফিয়া খাতুন।

## ছেলে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি, বিচার চেয়ে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

## অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লাশ গুম করার হুমকি, সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার চায় পরিবার

লোমহর্ষকভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করে সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘ঈদের আগে সোনাইমুড়ী থানার সোনাপুরের কালিকাপুর এলাকায় তার ছেলে দেলোয়ার হোসেনের সাথে একই এলাকার পেশাদার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সাহাব উদ্দিন, মাসুদ, শাকিল, সাজু, সুজন, ইউসুফ, এছাহাকদের মধ্যে কোরবানির গরু বাজারের ইজারা নিয়ে মতবিরোধ হয়।’

‘এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে কালিকাপুর বাজারে সেলুন দোকানের সামনে এ সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়। আমার ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে একা পেয়ে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। প্রতিবাদ করলে লাঠি, রামদা ও কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল, ঘুষি ও কুপিয়ে হাত পায়ের রগ কেটে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা তার ছেলের সাথে থাকা নগদ টাকা, দামি দুইটি মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ঘটনায় আহত দেলোয়ারের চিৎকারে কয়েকজন এগিয়ে এলে তার ছেলেকে মূমুর্ষ অবস্থায় ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে থানা পুলিশ বা কোথাও বিচার চাইতে গেলে পরবর্তীতে খুন করে লাশ ঘুম করার হুমকি ধমকি দিয়ে আতঙ্কিত করেন। এ নিয়ে মামলা করা হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে মামলার এজাহারভুক্ত স্বাক্ষীরা তার ছেলেকে রক্তাক্ত জখম ও অজ্ঞান অবস্থায় সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে তার অবস্থা বেগতিক ও আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে দেলোয়ার ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় শায়িত রয়েছে। তিনি সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।’

অপরদিকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে আসামিরা মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে আহতের মা সুফিয়া খাতুন ও তার পরিবারকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের কয়েকজন সদস্য জানান, অভিযুক্ত শাকিল, মাসুদ ও সাহাব উদ্দিনদের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা, দখল, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় তাদের ধারাবাহিক অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দখল দারিত্ম্যে পুরো কালিকাপুরবাসীই অতিষ্ঠ। কিছুদিন আগে তার পুত্র সিএনজিচালক সাখাওয়াত হোসেন সুজনকে চাঁদার দাবিতে অপহরণ করেন এ চক্র। পরে তিনি পুলিশের সহায়তায় ছেলেকে ফিরে পান।

একই অভিযোগ এলাকার বাবুল মিয়ার। তিনি বলেন, ১৬ মে রাত ১১ টার দিকে তার বাড়ির সামনে থেকে ছেলে সাহেদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তায় রাত ৩টায় বাগান বাড়ি নামক স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..