প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

গাইবান্ধায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র করছে বেক্সিমকো

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধায় ২০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপ। একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে তারা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়ে গতকাল রাজধানীর বিদ্যুৎভবনে বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে উদ্যোক্তাদের দুটি চুক্তি সই হয়েছে।

এই সৌরবিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে দেওয়া হবে। ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ১২ টাকা বা ১৫ সেন্ট। যতটুকু বিদ্যুৎ তত দাম (নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট) এ ভিত্তিতে পিডিবি ২০ বছর পুরো বিদ্যুৎ কিনবে। বেক্সিমকোর সঙ্গে রয়েছে চীনের বেসরকারি কোম্পানি টিবিইএ জিনজিয়াং সানওয়েসিসভ। প্রকল্পে বেক্সিমকোর অংশ ৮০ শতাংশ আর চীনা কোম্পানির মালিকানায় থাকবে ২০ শতাংশ। এ দুই কোম্পানি মিলে তিস্তা সোলার লিমিটেড নামে কোম্পানি গঠন করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তিস্তা। এজন্য গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে এক হাজার একর জমি কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেক্সিমকো। যদিও ২০০ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫০ একর জমি লাগে বলে জানা গেছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিশ্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশকেও সেদিকে যেতে হবে। এ প্রকল্পসহ ছয় উদ্যোক্তার সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়েছে। সোলার হোম সিস্টেমে বাংলাদেশ বিশ্বের পথপ্রদর্শক। এছাড়া সরকার একটি সৌন্দর্য গ্রাম করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই গ্রামের সব জ্বালানি হবে নবায়নযোগ্য। খুব তাড়াতাড়ি এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। আগামী বছরের মধ্যেই নতুন আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, টিবিইএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এন্থনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে পিডিবির সচিব মিনা মাসুদুজ্জামান ও তিস্তা সোলাররের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম সই করেন। অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব শেখ ফয়জুল আমীন ও পিজিসিবির সচিব মো. আশরাফ হোসেইন ও তিস্তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সই করেন।