বিশ্ব সংবাদ

গাজায় ইসরাইলের হামলায় আরও ৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর  ইসরাইলের বর্বরোচিত বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকালও ইসরাইলের বর্বরোচিত বিমান হামলায় অন্তত ১৩ শিশুসহ আরও ৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। গতকাল রোববার ভোরের ঠিক আগে গাজা শহরের কেন্দ্রে ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করে ইসরাইল। এ নিয়ে টানা সপ্তম দিন ইসরাইলের হামলায় গাজা উপত্যকা এখন বিধ্বস্ত। খবর: বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান।

ইসরাইলের এ হামলায় ৫২ শিশুসহ গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮১ জনে। এছাড়া গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এদিকে হামাসের ছোড়া রকেটে ইসরাইলে দুই শিশুসহ ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। 

গতকাল ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে দুটি আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। এদিকে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস প্রধানের বাড়ি। হামাসের আল আকসা টেলিভিশনের এক খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে, গাজার হামাসপ্রধান ইয়াহইয়া আল সিনওয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইয়াহইয়া আল সিনওয়ার ২০১৭ সাল থেকে গাজায় হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এদিকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় সময় রোববার (বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠক বসছে। তবে ইসরাইলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় বৈঠকে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ আসার সম্ভাবনা খুব কম।

এদিকে শনিবার রাতে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যতক্ষণ প্রয়োজন গাজায় হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া জানিয়েছেন, পাল্টা জবাব দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টেলিফোনে কথা বলেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। সেখানে নেতানিয়াহুকে গাজায় যুদ্ধ (প্রতিরোধ) চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। আর ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ আব্বাসকে ইসরাইলে রকেট হামলা বন্ধ করতে বলেন।

অন্যদিকে জেরুজালেম ও গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আজ জরুরি বৈঠক ডেকেছে ওআইসি। বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের উদ্যোগে অনলাইনে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওআইসিভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।

ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ: এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ভয়াবহ প্রাণঘাতী বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র আর ট্যাংক হামলা বন্ধের দাবি ও ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বেশ বড় বড় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীরা ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ নামাঙ্কিত পতাকা নিয়ে ‘ইন্তিফাদা বা গণজাগরণ দীর্ঘজীবী হোক’ বলে এ সময় সেøাগান দেন তারা। বেশিরভাগ মানুষকে এ সময় ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি’ ছাড়াও নানা প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়।

গতকাল লন্ডন শহরের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

কাতারের দোহায় অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব মসজিদে হাজার হাজার মানুষ পতাকা তুলে ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য জড়ো হন।

জার্মান শহর স্টুটগার্টে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করে।

বাগদাদে ইরাকি বিক্ষোভকারীরা ভয়াবহ হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তাদের হাতে দেখা যায় ফিলিস্তিনের পতাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে হাজার হাজার অ্যাক্টিভিস্ট ইসরাইলের বর্বর হামলার দিনে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকানরা রাজধানী কেপটাউনে অবস্থিত পার্লামেন্টের বাইরে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এর আগে শনিবার হামলা চালিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলি দখলদার বাহিনী।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..