সারা বাংলা

গাজীপুরবাসীর দুঃখ জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং

আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর: জয়দেবপুর জংশন লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিনের অসহনীয় তীব্র যানজট গাজীপুর নগরবাসীর দুঃখের প্রধান কারণ। প্রতিদিন এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ৭২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। এতে ১০-১৫ মিনিট করে ৭২ বার ওই লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়ছে নগরীর অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বক্ষেত্রে। এ সমস্যা নিরসনে নগরবাসী বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য বহু আবেদন-নিবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে এ দাবি বর্তমানে জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।
এমনিতেই শিববাড়ী-রাজবাড়ী সড়কটি প্রায় সব সময়ই রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভিড়ে ঠাসা থাকে। রেলগেট বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই এই লেভেল ক্রসিংয়ে দেখা দেয় তীব্র যানজট। শুধু যানজটই নয়, এখন মানবজটেরও সৃষ্টি হয় সড়কটিতে। এ সময় লেভেল ক্রসিংয়ের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এই যানজট কখনও কখনও শিববাড়ী থেকে রাজবাড়ী ছাড়িয়ে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ, এমনকি জোড়পুকুর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।
জয়দেবপুর জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান জানান, এই রেলওয়ে জংশন দিয়ে প্রতিদিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন, ১০টি কমিউটার, ছয়টি মেইল এক্সপ্রেস ও ছয়টি ডেমু ট্রেন ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। এছাড়া পণ্যবাহী ছয়টি ট্রেন এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করে। কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনও এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে সপ্তাহে চার দিন চলাচল করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেন যাতায়াতের সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট কমপক্ষে পাঁচ-সাত মিনিট বন্ধ রাখা হয়। কখনও কখনও ২৫-৩০ মিনিট পর্যন্তও স্থায়ী হয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেলগেট বন্ধ রাখা হয়।
এই লেভেল ক্রসিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় হওয়া সত্ত্বেও এখানে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ নেই। তবে দুই থেকে তিনজন পুলিশ সদস্যকে ক্রসিং এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এ সড়ক দিয়ে জেলা শহরে অবস্থিত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এবং জেলা জজ আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। সড়কটিতে তীব্র যানজটের কারণে তাদের বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। ফলে সময়ের প্রচুর অপচয় হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জানান, লেভেল ক্রসিংয়ের জন্য শহরের যানজট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। রেল জংশনের দক্ষিণ পাশ দিয়ে নগরীর চান্দনা হল থেকে রথখোলা পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, অচিরেই এই ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ..