সারা বাংলা

গাজীপুরের মহাসড়কে হকার বসিয়ে লাখ টাকা চাঁদাবাজি!

আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর: গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন জনাকীর্ণ বাসস্ট্যান্ডে শত শত হকার বসিয়ে উচ্চহারে চাঁদাবাজি করছে সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র। অভিযোগ, তারা চাঁদাবাজিতে ব্যবহার করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালীদের নাম। ওই এলাকার কোনাবাড়ি, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক ঘেঁষে প্রতিদিন বসানো হচ্ছে ৪০০-৫০০ হকার। ক্ষুদ্র পুঁজির ছিন্নমূল এসব হকার চা, পিঠা, বাদাম, সবজি, দেশি-বিদেশি ফল, তৈরি পোশাক, জুতা, মোবাইল ফোনের এক্সেসরিজ, কসমেটিকসসহ নানারকম পণ্য স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এসব হকার দিনভর পণ্য বিক্রি করে করে প্রতিদিন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা আয় করেন। এ দিয়েই চলে তাদের সংসার। মহাসড়কের দু’ধারে এক একজন হকারকে দুই থেকে তিন ফুটের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসতেও দিতে হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর একটি অসাধু চক্র অসহায় এসব হকারের কাছ থেকে প্রতিদিন আদায় করে থাকে লাখ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবারসহ জাতীয় দিবস, ঈদ-পূজা-পার্বনে তারা হকারপ্রতি আদায় করে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে ৬০০ টাকা। তাদের ইচ্ছামতো দাবি করা চাঁদার টাকা দেওয়ার পরও কয়েক মাস পর পর বেশি টাকা পেয়ে পূর্বের হকারদের উচ্ছেদ করে নতুন হকার বসানোর অভিযোগও করেছেন অসহায় হকাররা। চাঁদা দিতে বিলম্ব করলে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার।

কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক বাসস্ট্যান্ডের শতাধিক হকারের মধ্যে ১২ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় দুই প্রভাবশালী যুবক ওই বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করেন। এছাড়া স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ছাড়াও আশেপাশের এলাকায় কেউ বাড়ি-জমি-দোকান ক্রয়-বিক্রয় করলে চাঁদা দিতে হয় তাদের। এর মধ্যে একজন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যানের ছোট ভাই বলে জানা গেছে। অভিযোগ, চাঁদাবাজিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের নামও।

এদিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার সফিপুর বাজার বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মাঝখানে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচে প্রতিদিন হকার বসছে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াইশ’ জন। যানজটপূর্ণ এই বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তারা অধিকাংশই বখাটে। যখন যে দল সরকারে থাকে এই চক্রটি সেই দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। চক্রটি কখনও হাট ইজারার নামে, কখনও হাইওয়ে পুলিশ, কখনও সড়ক বিভাগকে, আবার কখনও থানা পুলিশকে বখশিশ দেওয়ার নামে এসব চাঁদাবাজি করে থাকেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এ ব্যাপারে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান হকারদের

কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, শিগগিরই হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আর কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল আমিন বলেন, ‘মৌচাক, কোনাবাড়ি, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় কোনো

হাট-বাজার নেই। তবে, সফিপুর হাট স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া মহাসড়কের পার্শ্বের জমি ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ মহাসড়কের ওপর হকার বসালে তা অবৈধ।’

অপরদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কানাবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত এক দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারের নিচে বসানো হয় হকার, পিকাপ স্ট্যান্ড আর মাদকের হাট। ফ্লাইওভার নির্মাণ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে হওয়া আবর্জনা সরিয়ে না নেওয়ার সুযোগে অবৈধভাবে এসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..