প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

গাজীপুরে এক দশকে নারীর কর্মসংস্থান বেড়ে চারগুণ 

 

গাজীপুর প্রতিনিধি: শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে দিন দিন মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন নারীরা। বিগত এক দশকে গাজীপুরে মহিলাদের কর্মসংস্থানের পরিমাণ বেড়েছে চারগুণ। জেলা পরিসংসংখ্যান অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অর্থনৈতিক শুমারি-২০১৩ এর জেলা রিপোর্ট অনুষ্ঠানে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে এ জেলার অবস্থান এবং এখানকার কর্মসংস্থানের বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোনিয়া আরেফিন জানান, গাজীপুরে বিগত এক দশকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি লোকের। জেলায় ২০১৩ সালে মোট ১০ লাখ ৪০ হাজার ২১৮ জন লোক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ছিলেন। যার পরিমাণ ২০০১ সালে ছিল তিন লাখ ৩৩ হাজার ৬৯ জন। অর্থাৎ গত এক দশকে গাজীপুরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে ২১২.৩১ শতাংশ। একই সময়ে মহিলা কর্মীর সংখ্যা চারগুণেরও বেশি হয়েছে। ২০০১ সালে মোট নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার ৩৭৬ জন,  ২০১৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে তিন লাখ চার হাজার ৯১৩ জন।

অন্যদিকে গত এক দশকে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে মহিলাদের সংখ্যা ৯ গুণেরও বেশি হয়েছে। ২০১৩ সালে মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মহিলা-প্রধান প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা  ছিল ১১ হাজার ৬২৪টি, যা ২০০১ সালে ছিল এক হাজার ২৫৫টি। পরিসংসংখ্যান অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুর জেলায় ২০১৩ সালে মোট ১১ হাজার ৭২৫টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজার ৯৬০টি প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, দুই হাজার ৭৩টি প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পাঁচ হাজার ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানে টয়লেট সুবিধা এবং দুই হাজার ৬০টি প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

জেলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নি¤œ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত। গাজীপুর জেলায় ২০১৩ সালে মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯.৮৭ শতাংশ (৪৮ হাজার ২০টি) প্রতিষ্ঠানপ্রধানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নি¤œ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে রয়েছে ২৬.৯৮ শতাংশ, মাধ্যমিক স্তরে ১৭.২৪ শতাংশ ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯.৩৮ শতাংশ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, সামগ্রিক অর্থনীতিতে গ্রামীণ অর্থনীতির ভূমিকা, জেলার সামগ্রিক কর্মসংস্থানে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির হার, কর্মরত জনবলের মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার, উৎপাদন শিল্প কর্ম-পরিবেশ, হস্তচালিত যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয় এ প্রতিবেদনে।