সম্পাদকীয়

গাড়ি নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নে অনিয়ম বন্ধ করুন

‘গাড়ি নিবন্ধন-ফিটনেস নবায়নে বন্ধ হচ্ছে কর ফাঁকির সুযোগ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তাতে আশাবাদী হবেন সাধারণ মানুষ। খবরে বলা হয়েছে, নিবন্ধন-ফিটনেস নবায়নে ই-টিআইএন (স্বয়ংক্রিয় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) যাচাই করবে বিআরটিএ। এজন্য বিআরটিএকে ই-টিআইএনের আইডি ও পাসওয়ার্ড দেবে এনবিআর। ফলে বেনামে কেনা রাস্তায় দাবড়ে চলা কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ির দৌরাত্ম্য কমবে।

কর ফাঁকি দিতে অনেক সময় আয়কর ফাইলে গাড়ি দেখানো হয় না। এতে টাকার উৎসও থেকে যায় অন্তরালে। কারণ ভুয়া ই-টিআইএন দিয়ে নিবন্ধন নেওয়া হয় বেশিরভাগই দামি গাড়ি। ফলে এসব গাড়ি মালিকদের খুঁজেও পাওয়া যায় না। তাই শুল্ক

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এ লক্ষ্যে প্রথমত রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধভাবে আনা গাড়ি দ্রুত জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

অনুনোমোদিত গাড়ি ব্যবহার করে ধরা পড়লে অনেক সময়ে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার অনেক সময়ে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে ই-টিআইএন যাচাইয়ের পাশাপাশি অবৈধ গাড়ি ধরতে সারা দেশে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় কারা গাড়ি আনতে পারবে তার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এনবিআর। বিলাসবহুল গাড়ি আনার পর তা যথাসময়ে ফেরত নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নজরদারির দায়ও এনবিআরের। আবার রাস্তায় চলাচলসহ গাড়ি নিবন্ধন, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নজরদারির দায়িত্ব বিআরটিএর। তাই অবৈধভাবে দামি গাড়ি ব্যবহার বন্ধে নজরদারি জোরদার করতে হবে। ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধন পাওয়া গাড়ির জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল বিআরটিএ থেকে এক হাজার ৮২১টি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য সংগ্রহ করে। এসব গাড়ির ই-টিআইএন যাচাই করে ১২৬টি গাড়ির ই-টিআইএন ভুয়া পাওয়া যায়। মূলত করফাঁকি দিতেই গাড়ি মালিকরা ভুয়া ই-টিআইএন ব্যবহার করে আসছে। গাড়ি নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নে ভুয়া ই-টিআইএন ব্যবহার বন্ধে ই-টিআইএন যাচাই করতে হবে।

অনিবন্ধিত ও জাল টিআইএনধারী গাড়ির মালিকদের আয়কর নথি না থাকায় বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। সম্পদশালী ব্যক্তিরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি দেশে এনে বড় ধরনের বাণিজ্য করছেন। এ কাজ একজন ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব নয়। শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে এ কাজে এনবিআর ও  বিআরটিএর কিছু অসাধু ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য- প্রমাণ জোগাড় করে এ চক্র ভেঙে দিতে হবে।

পর্যটক ও কূটনীতিক, জনপ্রতিনিধি ও বিশেষ ব্যক্তিরা কারনেটসহ শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে বিলাসী গাড়ি এনে কারসাজি করে ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধন করে বিক্রি করে দেন। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বারভিডার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কারনেট সুবিধায় আসা গাড়ি কীভাবে বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশন পায়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। শুল্কমুক্ত গাড়ি ছেড়ে দিলে বৈধভাবে ব্যবসাকারীরা বিপাকে পড়বেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..