গাসিক এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিন

বর্তমান সময়ে রাজধানী বা এর উপকণ্ঠে বাড়ি তৈরি করা কষ্টসাধ্য। যারা কষ্টেসৃষ্টে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেন, তাদের কী পরিমাণ মূল্য-শ্রম দিতে হয়েছে, তারাই জানেন। ফ্ল্যাট-প্লট কিনতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়। চাহিদামতো নিষ্কণ্টক জমি পাওয়াও খুব সহজ নয়। একটু অসতর্কতায় কত ঝামেলার শিকার হতে হয়। একটি শ্রেণির লোক তো জমির খুঁত ও মালিকের দুর্বলতা খুঁজে ক্রেতাকে বিপাকে ফেলতে ওত পেতে আছে। জমির দলিল, পরচা ও মিউটেশন, মালিকের পরিচয়পত্রের নামের সঙ্গে জমির দলিল বা খাজনার সঙ্গে অমিল, ভবনের নকশা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রভৃতিতে ফাঁকফোকর থাকলে অর্থ দিয়ে সেগুলো সামাল দিতে হয়। জমি কেনার পর তা দখলে রাখাও অতি জটিল কাজ।

গতকাল শেয়ার বিজের ‘জমি অধিগ্রহণ করে টাকা দেননি জাহাঙ্গীর, তদন্তের নির্দেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন সময়ের প্রেক্ষাপটে পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর জন্য তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, তার বিরুদ্ধে অনেকে মন্ত্রণালয়ে নানা অভিযোগ করেছেন। সেগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে জমিমালিকদের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে দল থেকে আগেই বহিষ্কার করা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। এ খবরে গাজীপুর শহরে অনেকে উল্লাসে ফেটে পড়েন। খুশিতে মিষ্টি বিতরণও করেন কেউ, এমন খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। জানা গেছে, কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই উল্লসিত হয়নি। গাসিক মেয়রের দ্বারা যারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারাও রয়েছেন। গত ১ নভেম্বর শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলÑ‘পছন্দের ঠিকাদারে চলছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন: তিন বছর লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ ৩৫০ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের’। অন্যায়ভাবে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় কাজ পাচ্ছিলেন না ঠিকাদাররা। সিটি করপোরেশনে বহু দেনদরবার করেছেন। কিছুই হয়নি। ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়, সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার জন্য বাসাবাড়ি ভাঙা হলেও ক্ষতিপূরণ পর্যন্ত দেয়া হয়নি জমিমালিকদের। এক ব্যক্তির বাড়ি আড়াই কাঠার ওপর নির্মিত। তার মধ্যে দেড় কাঠা ছেড়ে দিতে হচ্ছে সড়ক সংস্কারে। তিনি পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। তার মতো অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন গাসিকের সিদ্ধান্তে।

গাসিকের বরখাস্ত হওয়া মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তদন্ত করা হবে। তদন্তে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু গাসিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরাও যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান, সে ব্যবস্থাও নেয়া প্রয়োজন। সড়ক সবার জন্যই প্রয়োজন। রাষ্ট্র সেজন্য ভূমি অধিগ্রহণ করবে এবং আইন অনুয়ায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেবে। জমি অধিগ্রহণসহ অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য গাসিক দায়ী হলে রাষ্ট্র গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২৭  জন  

সর্বশেষ..