সম্পাদকীয়

গুজব রটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকুক

শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামা স্বাভাবিক। এখানে কেউ লাভবান হন, কেউবা লোকসানে পড়েন। তবে লোকসানে পড়লেই হাল ছেড়ে দিয়ে বিপদ বেশি। এমন বিনিয়োগকারীকে টার্গেট করে সুযোগসন্ধানীরা।

বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে কৃত্রিমভাবে বাজার চাঙা করা হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এতে খেই হারিয়ে ফেলে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারের নিয়ন্ত্রক বলা যায়। তারা সবসময় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। বাজারে সূচকের ওঠানামা অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। তারা সবসময় সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেই সুনির্দিষ্ট শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে থাকে। বলা যায়, তারা বাজারের স্থায়ী অংশীদার।

বাজার ভালো হলেই সক্রিয় থাকবে আর পড়ে গেলে পুঁজি তুলে নেবে, এটা তাদের ধর্ম নয়। তবে কোনো ফন্দি থাকলে ভিন্ন কথা। অবশ্য বর্তমান বাজারের গতি-প্রকৃতিতে প্রতীয়মান হয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। এ অবস্থায় বাজার ঝিম ধরে আছে। এটি কোনো ঝড়ের পূর্বলক্ষণ বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ধরনের পূর্ভাবাস দেখে সতর্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সাধারণত লেনদেন চলাকালে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বিভিন্ন কোম্পানির বিষয়ে গুজব ছড়ানো হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও কোম্পানির তথ্য আদান-প্রদানের গুজব ছড়ায়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকেন। আবার কোনো কোম্পানি গুজব ছড়াতে লোক নিয়োগ দেয়, এমন কথাও শোনা যায়।

গতকাল শেয়ার বিজের ‘ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে চিঠি: গুজবকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে বিএসইসি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।

খবরে বলা হয়, পুঁজিবাজারে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা হাসিলকারীদের দমনে বিএসইসি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হবে।

গুজব রটনাকারীদের শাস্তি দেওয়া গেলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলেই আমরা মনে করি। ডিসিশন মেকার, ডিএসই স্মল ইনভেস্টর প্রফিট ক্লাব, ডিএসই শেয়ার বিজনেস, ইনভেস্টরস ক্লাবসহ বাজারে গুজব সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে।

পুঁজিবাজার বিশেষ ধরনের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এটির ভূমিকা যাতে আরও জোরদার করা যায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদেরও উচিত গুঞ্জন-গুজবে প্রভাবিত না হয়ে মেধা খাটিয়ে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা। গুজবের ভাষা বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকা চাই। কোন শেয়ারের দর বাড়বে, কোন শেয়ারের দর কমবে, কোন কোম্পানি কত লভ্যাংশ দিতে পারে, কোন কোম্পানিতে গ্যাম্বলার ঢুকেছে এবং কত দিনের মধ্যে বেরিয়ে যাবে কিংবা ইনবক্সে আসুন আইটেম দিচ্ছি, শর্ত ১০ শতাংশ কমিশন দিতে হবেÑএমন লোভনীয় অফারে বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না। বিভিন্ন সময়ে বাজারে বড় ধরনের ধসে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী। হাতেগোনা কয়েক খেলোয়াড় বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে কোনোভাবেই কেলেঙ্কারির খলনায়কদের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..