দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

গুরুত্ব পাবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক ২৯ জানুয়ারি

মাসুম বিল্লাহ: দুই বছর পর ফের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) সভা। আগামী ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অন্যবার দুই থেকে তিন দিন ধরে এ সম্মেলন হলেও এবার তা এক দিনেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এবারের বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্ব কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

যদিও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনুমোদন এখনও হয়নি, তবে এটির একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। চলতি বছরই শেষ হচ্ছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাস্তবায়ন শুরু হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রের অন্যতম নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুই দিনের বিডিএফ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার এক দিনের সভা আয়োজন করা হচ্ছে বলে উন্নয়ন ফোরামের ধারণাপত্র থেকে জানা গেছে। সভার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এবারের সভার আয়োজন করেছে। এবারের বৈঠকে মোট ৯টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

মূলত উন্নয়ন অংশীদার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, এনজিও, গবেষণা সংস্থা এতে অংশ নেয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা মতামত তুলে ধরেন। ২০১৮ সালের আগে ২০১৫ ও ২০১০ সালে বিডিএফ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে বিডিএফের বৈঠকে দেশি-বিদেশি ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা মতামত তুলে ধরেন।

এবারের এক দিনের সভায় মোট ৯টি অধিবেশনে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে, তার মধ্যে প্রধান অধিবেশন বা কিনোট সেশনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব’। এ অধিবেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন জিইডির সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের সভাপতি আমিরা হক। অন্য যে অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে সেগুলো হলোÑউন্নয়নে ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ ও বাণিজ্য সহজীকরণ, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অংশীদারিত্ব ও অর্থায়ন, গ্রামীণ বিবর্তন: সবার জন্য সুযোগের সমতায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সবার জন্য গুণগত শিক্ষা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানো, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবশেষে অনুষ্ঠিত হবে সংবাদ সম্মেলন, যেখানে দিনব্যাপী আলোচনার সারবস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. শামসুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, এবারের আলোচনার প্রধান প্রতিপাদ্যই হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্বের ওপর। মূলত তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হলো সপ্তম, অষ্টম ও নবম। এরই মধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ প্রায় শেষ। এবারের ফোরামে সপ্তম পরিকল্পনার অগ্রগতি ও অর্জন বিষয়েও উন্নয়ন সহযোগীদের ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অষ্টম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরে সে অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্ব কামনা করা হবে।

প্রতিটি অধিবেশনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। সেশনগুলোতে কিনোট উপস্থাপন ছাড়াও অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

এবারের আগত অতিথিদের বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনিচি ইয়ামাদা, ইউনিডোর দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি ভ্যান বার্কলে রিন ছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। প্রথম দিকে দুই দিনের সভা আয়োজন করা হলেও রাজধানীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে এক দিনে করার সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাইকা ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, মূলত অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৪ সালে এলডিসির তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন সে বিষয়েও আলোচনা হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরা ছাড়াও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও করণীয়গুলো সভায় উঠে আসবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..