প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

গৃহঋণে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে ব্যাংকগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে গৃহঋণে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে অনেক ব্যাংক। পাশাপাশি ঋণ প্রসেসিংসহ নানা ধরনের হিডেন খরচ তো আছেই। এতে গৃহঋণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২০ পর্যন্ত সুদও বহন করতে হচ্ছে গ্রাহককে। এদিকে অন্যান্য ঋণের সুদহার কমলেও অধিকাংশ ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে গৃহঋণের সুদের হার পরিবর্তনও করছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে সাত দশমিক আট শতাংশ ব্যাংক তাদের গৃহঋণের সুদহার কমিয়েছিল। ১৭ দশমিক ছয় শতাংশ ব্যাংক গৃহঋণের সুদহার বাড়িয়েছিল। বাকি ৭৪ দশমিক ৬০ শতাংশ ব্যাংকের গৃহঋণের সুদহার ছিল অপরিবর্তিত। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেও গৃহঋণের সুদহার নির্ধারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থান একই রকম ছিল।
শিল্প খাতের ঋণের সুদহার নিন্মমুখী রাখতে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চাপ ও সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও গৃহ বা আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যাংকঋণের সুদহার সহনীয় রাখতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। বরং আবাসন খাতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা ৭০০ কোটি টাকার একটি ঘূর্ণায়মান পুনঃঅর্থায়ন তহবিল আট বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ২০০৭ সালে চালু করা ওই তহবিলের কার্যক্রম ২০১১ সালে মূল্যস্ফীতি চরমে পৌঁছলে আবাসন খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত বিবেচনায় তা বন্ধ রাখা হয়।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা খুবই সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ পাচ্ছেন। কিন্তু দেশের মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের কর্মরত নির্দিষ্ট আয়ের মানুষগুলোকে গৃহঋণ নিতে হচ্ছে চড়া সুদে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঋণ নেওয়ার পর পরিশোধের আগে একাধিকবার ঋণের সুদহার বাড়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. মহসীন শেয়ার বিজকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দুবার তার গৃহঋণের সুদহার বাড়িয়েছে। এ নিয়ে বেসরকারি ওই ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট শাখায় ধরনা দিয়ে কোনো লাভ হয়নি ওই গ্রাহকের।
বর্তমানে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ১০ শতাংশের কম সুদে ঋণ দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী।
আবাসন খাতে ব্যাংকঋণ সহজলভ্য করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন ওই প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা এবং এর আকার বাড়ানোর বিষয়ে এ খাতের সংগঠন রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সূত্রমতে, রূপালী ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন ব্যাংকগুলো ৯ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রূপালী ব্যাংক নিচ্ছে ৯-১১ শতাংশ সুদ। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাকাব গৃহঋণ দিচ্ছে না।
বেসরকারি ইবিএল গৃহঋণের সুদ নিচ্ছে ১০ থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক নিচ্ছে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংক ১০ থেকে ১৩ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ও উত্তরা ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক নিচ্ছে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ নিচ্ছে গৃহঋণে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংক সাড়ে ১৪ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ও এনআরবি ব্যাংক নিচ্ছে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ, এবি, আইএফআইসি, প্রাইম, মিডল্যান্ড ও ইউসিবি ১২ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে। আর মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও এনবিএল নিচ্ছে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদ।
জানতে চাইলে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, ‘আবাসন খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ অনেকটা নিরাপদ। ঋণ নিয়ে একটা বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কিনতে পারলে মানুষের বছরের পর বছর ভাড়া বাসায় না থেকে নিজের বাসায় থাকার সুযোগ হয়। সে তুলনায় এই খাতে এখন সুদের হারও অনেক কম বলা যায়।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..