প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার ক্ষতি ২২৬ বিলিয়ন ডলার

 

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ছয় বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাতীয় সম্পদ, ভৌত অবকাঠামো ও বিভিন্নœ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ২২৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ডেইলি সাবা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মতে, ২০১১ সালের মার্চে শুরু  হওয়া ও গৃহযুদ্ধে তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দেশটির অর্ধেক মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হাফেজ ঘানেম এক বিবৃতিতে জানান, সিরিয়ায় যুদ্ধে মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সিরিয়ায় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে ছয় বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২২৬ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১০ সালে দেশটির জিডিপির চারগুণ।

যুদ্ধে সিরিয়ার ২৭ শতাংশ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আর দেশটির হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেকই ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে প্রতিবছর পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরাসরি যুদ্ধে যে সংখ্যক মানুষ মারা গেছেন তার থেকে বেশি মারা গেছেন চিকিৎসার অভাবে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও খাবার অভাবই দায়ী তাদের মৃত্যুর জন্য।

যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পরোক্ষভাবে মৃত্যুর হার আরও বাড়বে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ মাত্রায় উঠেছিল। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের কয়েক বছরের মধ্যে শিশুদের হত্যা, বিকলাঙ্গ করা অথবা কোনো সশস্ত্র সংগঠনে নিয়োগ করার মতো ঘটনা গত বছরই সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এতে শিশুদের দুর্ভোগের মাত্রা ছিল নজিরবিহীন।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক গির্ট ক্যাপেলিয়ার সিরিয়ার হোমস শহর থেকে বলেন, দেশটির লাখো শিশুর ওপর প্রায় প্রতিদিন হামলা হয়েছে। এতে তাদের স্বাস্থ্য, জীবন ও ভবিষ্যতের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে।

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে সিরিয়ায় সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২টি শিশু। সংখ্যাটি আগের বছরের (২০১৫) তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে নিহত শিশুদের অন্তত ২৫০ জন বিদ্যালয়ের ভেতরে বা কাছাকাছি হামলার শিকার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলেছে, এগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হিসাব। তার অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধে নিহত শিশুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা জানায়, অন্তত ৮৫০টি শিশুকে লড়াইয়ে যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাদের কেউ কেউ হত্যাকারী বা কারারক্ষী হিসেবে কিংবা আত্মঘাতী বোমা হামলার কাজে অংশ নেয়। শিশু যোদ্ধার এ সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ।

ইউনিসেফ বলছে, সিরিয়ার ২৩ লাখ শিশু তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান, মিসর ও ইরাকে শরণার্থী হিসেবে বাস করছে। আরও দুই লাখ ৮০ হাজার শিশু দেশের ভেতরেই অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তারা খাবার বা ওষুধ পাচ্ছে না। বেঁচে থাকা ক্রমেই কঠিন হতে থাকায় সিরিয়ার ভেতরে বা বাইরে আশ্রিত অনেক পরিবার বাল্যবিবাহ অথবা শিশুশ্রম মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।