প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

গোদাগাড়ীর বাজারে বেড়েছে ইলিশ সরবরাহ

আসাদুজ্জামান রাসেল, রাজশাহী : ২২ দিন অপেক্ষার পর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাজারে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। ইলিশপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারে ৭০০ গ্রাম থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকায়। এ ছাড়া ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৮০-৩৫০ টাকা ও ৪০০-৪৫০ গ্রাম ওজনের ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গোদাগাড়ীর মাছ বাজারে গত মঙ্গলবার প্রত্যেক বিক্রেতার কাছেই দেখা যায় নানা আকৃতির ইলিশ। শুধু বাজারেই নয়, ইলিশ বিক্রি হচ্ছে পদ্মা-তীরবর্তী বিভিন্ন খেয়াঘাটে। এমনকি গ্রামে ফেরি করেও বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। তবে শুধু ইলিশ নয়, বর্তমানে পদ্মায় সর্বনি¤œ পাঁচ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের পাঙ্গাশ ও বাঘাইড় মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। এদিকে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বরফকলগুলো বরফ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরফ না পাওয়ায় মাছ অনেক নষ্টও হচ্ছে। বরফের অভাবে অনেক জেলে বিভিন্ন জায়গায় মাছ বিক্রি করছেন।

গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মৎস্যজীবী মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৩৮ বছর ধরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ এ সময়ে একসঙ্গে এত ইলিশ চোখে দেখেননি। জেলেরা জানান, এ সময়ে পদ্মায় অনেক মাছ ও মাছের দাম পেয়ে বেজায় খুশি তারা। মৌসুমে একেক জেলে এক লাখ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করেছেন শুধু ইলিশ বিক্রি করে।

ইলিশের পাশাপাশি বাঘাইড় ও পাঙ্গাশ বেশি পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তারা জানান, এবার পদ্মা নদীতে পানি ছিল অনেক, পানির গভীরতার জন্য এসব মাছ এই অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে এসেছে, তাই এসব মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে পাওয়া যাচ্ছে। এবার ধরা পড়া প্রতিটি পাঙ্গাশ ও বাঘাইড়ের ওজন পাঁচ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত।

রেল বাজারের মাছের আড়ৎদার নুরুজ্জামান জানান, নিষেধাজ্ঞার পর গত দু’দিনে প্রচুর ইলিশ উঠেছে বাজারে। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। গত দুদিনে এ বাজারে প্রায় ২০০ মণ ইলিশ উঠেছে। একেক আড়তদার দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকার ইলিশ কেনাবেচা করেছে। মাছের সরবরাহ ও দামে ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনই খুশি।

গোদাগাড়ী সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শামসুল করিম জানান, ১ থেকে ২২ অক্টোবর মা ইলিশ ধরার যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা অনেকটাই কাজে দিয়েছে। এজন্য পদ্মায় এত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাশ ও বাঘাইড় পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, গোদাগাড়ীর রেল বাজার থেকে সুতানগঞ্জ পর্যন্ত মাটিতে কঙ্কর জাতীয় খাবারের প্রাচুর্যতা থাকাই এসব মাছের দেখা মিলছে।