Print Date & Time : 19 September 2021 Sunday 10:35 pm

গৌরীপুরে যত্ন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: June 20, 2021 সময়- 09:23 pm

রবিউল আউয়াল রবি, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি) যত্ন প্রকল্পের আওতায় গর্ভবতী মা ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মায়েদের সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েক দিন ধরে চলছে ব্যাপক তোলপাড়।

এ ঘটনায় অভিযোগ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে। তাদের ভাষ্য, যেহেতু খোদ দুই ইউপি চেয়ারম্যান যত্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, তাই অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের কোনো বিকল্প নেই। তাদের আশা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখবে।

যত্ন প্রকল্পে ভাংনামারী ইউনিয়নের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া সুজন জানান, এ ইউনিয়নে মোট আবেদন জমা হয়েছিল প্রায় এক হাজার ৯০০, তবে উপকারভোগী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৫৩ জন।

সূত্রমতে, ভাংনামারী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজুন নূর খোকা বিগত ২ জুন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ‘যতœ প্রকল্প নিয়ে অনেক অভিযোগ আসছে। গরিবদের বাদ দিয়ে সরকারি বিধিবহির্ভূত অনেকেই ক্যাশ কার্ড পাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। বাছাইপর্বে চেয়ারম্যানকে রাখলে এ অনিয়ম করার সুযোগ ছিল না। অনিয়মকারীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ আশা করছি। অন্যথায় অসহায় মানুষগুলোকে নিয়ে আদালতে যাব।’

এ প্রসঙ্গে ভাংনামারী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজুন নূর খোকা শেয়ার বিজকে বলেন, এই অনিয়মের দায় সম্পূর্ণ অডিট কর্মকর্তাদের, যারা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে তালিকা প্রণয়ন করেছেন। ফলে যারা পাওয়ার যোগ্য তারাই পায়নি, অথচ যারা সক্ষম তাদের নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে।

একই দিন একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলে মাসুদ তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ভাংনামারী ইউনিয়নের যতœ প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অডিট টিম ও পরিষদের যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর আগামী রোববার অভিযোগ ও স্মারকলিপি দাখিল এবং সরেজমিনে তদন্তের আবেদন দাখিল করা হবে।’ তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ডিসি বরাবর কোনো অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার গুঞ্জন চলছে সাধারণ মহলে।

এদিকে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে মো. জহিরুল ইসলাম মণ্ডল লিখেছেন, ‘কার্ডপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা চুক্তি করে নাম দেয়ার সময় দুই হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে, বাকি টাকা না দিলে নাম কেটে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।’

শহীদুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, টাকা নিয়ে অনেক কার্ডধারীকে সুবিধা দেয়া হয়েছে। আবার চাহিদার টাকা দিতে না পারায় কার্ড হয়নি। ব্যবস্থা নিতে পারবেন কি?

শেখ আনোয়ার হুসাইন আনার নামে একজন লিখেছেন, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালী ও চাকরিজীবীরাও কার্ড পাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে যারা কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত তারা কার্ড না পেয়ে হতাশ। যাদের পাকা ঘর তারা কার্ড পাচ্ছে, আর যাদের থাকার মতো ঘর নেই, তারা কার্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গৌরীপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত এর প্রতিকার চাই।

অভিযোগ উঠেছে, যতœ প্রকল্পে প্রতিটি উপকারভোগীর কাছ থেকে কার্ডপ্রতি চার থেকে সাত হাজার টাকা করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়, যদিও উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কোনো বিধান নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ শেয়ার বিজকে বলেন, আমি অনিয়মের বিষয়ে শুনেছি, কিন্তু লিখিত কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।