প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

গ্যাসের দাম কম ছিল বলেই বেড়েছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাসের দাম আগে থেকেই কম ছিল বলেই এখন বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউজে এক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিলেট সার্কিট হাউজে সিলেট সিটি করপোরেশনের শিক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকারের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকার একটি অনুদান চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল হক এবং ভারত সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকেই গ্যাসের দাম তুলনামূলক কম ছিল। সেই কম থেকে এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ থেকে এক চুলার গ্যাসের জন্য খরচ করতে হবে ৭৫০ টাকা, এটা জুনে বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে ৯০০ টাকায়। আর মার্চ থেকে দুই চুলার গ্যাসের জন্য খরচ হবে ৮০০ টাকা, যা জুনে বেড়ে হবে ৯৫০ টাকা। বর্তমানে প্রতি চুলা গ্যাসের দাম রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা, আর দুই চুলার জন্য নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা।

এছাড়া চুক্তি সই অনুষ্ঠানে কানাডার ফেডারেল আদালতের রায়ে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলার বিষয়টি সরকারের চক্রান্ত বিএনপির এমন দাবি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যেখানেই ব্যর্থ হয়, সেখানেই ষড়যন্ত্র দেখে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে বিরোধী দল থাকা উচিত। তারা সমালোচনা না করলে আমরা সচেষ্ট থাকবো না। কিন্তু বিরোধী দলকে গঠনমূলক হতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে হলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বানও জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে কাজ করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। ভারত সরকার সব সময় এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ইস্যুতে সব সময় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল নির্মাণ, একটি ক্লিনিক নির্মাণ ও ধোপাদিঘির পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ।