আজকের পত্রিকা

গ্যাস চুরি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে বিশ্বজুড়ে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। তবে প্রাকৃতিক এ সম্পদের মজুদ কমে আসায় উদ্বেগও রয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সিলিন্ডারের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোয় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। তবে নানা কারণে গ্রাহকরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। আবার প্রায় প্রতি বছরই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অথচ দেশজুড়ে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরির পাশাপাশি জনজীবন হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে কিছু চক্র। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এর পেছনে জড়িত বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত গ্রাহকদের কাক্সিক্ষত মানের সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘সাভারে বন্ধ হচ্ছে না তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। কিন্তু গ্যাস চুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্নমানের ফিটিংস ব্যবহার করে নেওয়া অবৈধ সংযোগের লিকেজ থেকে মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি উদ্বেগজন। এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির পাশাপাশি স্থানীয়দের জানমাল ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করা না গেলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
দেশে প্রাপ্ত খনি থেকে যে গ্যাস পাওয়া যায়, তা চাহিদার তুলনায় কম। ফলে গ্যাস আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। পাইপলাইনেও আমদানি করা গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু এভাবে চুরি রোধ করা না গেলে সরবরাহ বিঘ্নিত অব্যাহত থাকবে সন্দেহ নেই। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, সাভারে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে ফের অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে প্রভাবশালীরা। বলা বাহুল্য, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চক্রগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তার জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত জুনে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অথচ কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না বলে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়। শুধু সাভারেই নয়, রাজধানীসহ সব অঞ্চলে একই অবস্থা। গ্রাহকসেবা নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য অবৈধ সংযোগ বন্ধের বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে যারা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অবৈধ সংযোগের কারণে কোথাও জনজীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। তিতাসসহ গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও বিস্তর। এতে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সর্বশেষ..