দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

গ্যাস-বিদ্যুতে সাফল্য এলেও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়ে গেছে: ফরাসউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ-গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে বাংলাদেশ সাফল্য পেলেও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। জ্বালানিবিষয়ক এক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

গতকাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের সংগঠন যৌথভাবে এই সেমিনারটির আয়োজন করে।

জাতীয় শোক দিবস ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস সামনে রেখে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। এতে ‘বঙ্গবন্ধু: জ্বালানি নিরাপত্তা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মোল্লা আমজাদ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো ছিল শিল্পায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন। তার কন্যা শেখ হাসিনার কাজের মাঝেও এর পূর্ণ রিফ্লেকশন দেখা যাচ্ছে। শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য দেখালেও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

যেমন ধরুন আট-দশ বছরে বাপেক্সে যদি আট ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যায়। একজন ব্যবস্থাপক নিজের পরবর্তী কর্মক্ষেত্র নিয়ে ভাববেন, নাকি এখানে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফরাস উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মাটির নিচে তেল-গ্যাস, সোনা-দানা রয়েছে, এমন আশায় আশাবাদী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর প্রথম যে পঞ্চবার্ষিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে চারটি প্রধান বিষয় ছিল কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি।

’৭৩ সালে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে ১৭টি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সময় এসব চুক্তি থেকে সেলামি বাবদ অর্থ পেয়েছিল বাংলাদেশ। জ্বালানি খাতের জন্য বঙ্গবন্ধু সর্বশেষ বড় কাজটি করে গিয়েছিলেন পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বর্তমান সরকারের সক্ষমতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো টলে উঠছে। সেখানে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ভালো করে যাচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি আট দশমিক দুই শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ হয়েছে। মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলারের ওপরে রয়েছে। এত মারাত্মক পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। এগুলো আমাদের অর্থনীতির জন্য শুভ লক্ষণ।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধকালে বাংলাদেশ নামক ছোট্ট এই রাষ্ট্রটির জš§। পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রই শুরুর দিকে বাংলাদেশকে ভালো চোখে দেখত না। সেই সময় বহুজাতিক কোম্পানি থেকে নিজেদের গ্যাস নিজেদের আয়ত্তে রাখার উদ্যোগ সত্যিই অনেক বড় সাহসের কাজ ছিল।

আমরা বিদ্যুতের বড় বড় প্রকল্প যখন হাতে নিচ্ছি, তখন অনেকেই সমালোচনা করে বলেছিলেন, এগুলো সম্ভব নয়। আজকে পায়রা ও মাতারবাড়ীতে বড় প্রকল্পগুলো যথাসময়েই বাস্তবায়নের মুখ দেখেছে। কয়লাভিত্তিক আলট্রা সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট নির্মিত হয়েছে, যা সারা বিশ্বে বিরল বলে উল্লেখ করেন ফরাসউদ্দিন।

পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ চিশতি, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফি প্রমুখ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..