প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার পাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প এলাকা

নীতিমালা চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ও পরিকল্পিত শিল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাকৃতিক গ্যাস দেবে সরকার। আর শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এসব নির্দেশনা রেখে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দ নীতিমালা-২০১৯’ চূড়ান্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি গেজেট আকারে প্রকাশিত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ওই নীতিমালায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সব ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে মিটারিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্রমতে, দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য, অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক সম্পদ, গ্যাসের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, পরিবর্তিত চাহিদা ও প্রযুক্তি মাথায় রেখে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে শিল্পায়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখবে এমন খাতকে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে শিল্প খাত। অন্যদিকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাবে গৃহস্থালি খাত।

গ্যাস বরাদ্দের জন্য নীতিমালায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পরিকল্পিত শিল্প এলাকাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে তোলা শিল্পপ্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে না। অগ্রাধিকার তালিকায় শিল্প খাতে পরই রয়েছে বিদ্যুৎ ও সার। এবার ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানোর কথা বলা হয়েছে। সে সঙ্গে যানবাহনে সিএনজি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করবে সরকার। পরিবহন খাতে জ্বালানি হিসেবে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) তথা অটোগ্যাস ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে। গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাতেও প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো হবে। ব্যাপক ভিত্তিতে এলপিজি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় রেগুরেটরি সাপোর্টের কথাও নীতিমালায় বলা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক, হাইব্রিড ও ব্যাটারিচালিত গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। বাড়ছে অটোগ্যাসের চাহিদাও। অটোগ্যাসের মাধ্যমে গাড়ির সিলিন্ডার একবার পূর্ণ করলে তা দিয়ে সিএনজির তুলনায় চার বা পাঁচগুণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। এছাড়া এলপিজি তুলনামূলক নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও কম ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি। জ্বালানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে পরিবহন খাতে পর্যায়ক্রমে সিএনজির পরিবর্তে অটোগ্যাসকে উৎসাহিত করা যৌক্তিক।

এদিকে নতুন নীতিমালায় গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস উৎপাদন, আমদানি, সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, প্রতিটি শিল্প কারখানায় নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ইলেকট্রনিক ভল্যুমেট্রিক কারেকটর (ইভিসি) মিটার স্থাপন ও পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককে আধুনিক মিটারিং সিস্টেমের মধ্যে আনার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এনার্জি ইফিশিয়েন্ট যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করতে আমদানি এবং গ্রাহক পর্যায়ে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া বড় গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানে অডিট সিস্টেম চালু করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) অনুমোদিত এনার্জি অডিট ফার্ম এসব অডিট করবে। কোন খাতে কী পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হবে, সেজন্য বরাদ্দের ক্যালেন্ডার করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। বড় গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনে সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা মূল্য নির্ধারণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সে সঙ্গে গ্যাস ব্যবহারকারীদের কেন্দ্রীয় তথ্য ভাণ্ডারও তৈরি করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ৩২০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ২৭০ কোটি ঘনফুট। অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করা হচ্ছে। তবে আমদানি করা এলএনজির দাম স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা গ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু সরকার ভিশন ২০২১ ও ভিশন-২০৪১-এর লক্ষ্য অর্জনে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। এলএনজি আমদানি যেহেতু প্রচুর ব্যয়বহুল, সেহেতু গ্যাসনির্ভর যেসব খাত বা প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পরিকল্পিত শিল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..