প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

গ্রামীণফোনের উত্থান ও পতন ঠেকাতে পারেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই কার্যদিবসের বিরতি দিয়ে আবারও পতনের ধারায় ফিরে গেছে পুঁজিবাজার। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর। যার জের ধরে পতনে ঘটেছে সূচকের। এদিন গ্রামীণফোনের শেয়ারদর সাত টাকা ৬০ পয়সা বৃদ্ধি পেলেও তা বাজারের পতন ঠেকানাতে পারেনি। এদিন গ্রামীণফোনের বাজার মূলধনে যোগ হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু তারপরও বাজারে পতন হয়েছে। তবে গ্রামীণফোনের শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচককে বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা করেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ব্যাংকসহ বেশিরভাগ বড় বড় খাতের কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। ব্যাংক খাতে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায়। যা সূচকের পতনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। একইভাবে দরপতন হয় জ্বালানি, প্রকৌশল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য খাতের শেয়ারদরে। ফলে সূচকের পতন হয়। এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ বেশিরভাগ বড় বড় কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। এসব কোম্পানির শেয়ারদর দর হ্রাস পাওয়া পতনকে আরও উসকে দেয়।
এদিকে গতকালের লেনদেন চিত্রে দেখা যায় লেনদেন দৌড়ে এদিন এগিয়ে ছিল প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ২২ শতাংশের বেশি। পরের অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতে অবদান ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এদিন ব্যাংক খাতের অবদান ছিল মাত্র ছয় দশমিক ১৪ শতাংশ। পরের অবস্থানে ছিল জ্বালানি ও শক্তি খাত। এ খাতের অবদান ছিল পাঁচ দশমিক ৭০ শতাংশ।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা আস্থা সংকটে ভুগছেন। যার প্রভাবে শেয়ারবাজারও ধুঁকছে। এখন শেয়ারবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ। আস্থা সংকটের কারণেই দুই কার্যদিবস কিছু ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। ফলে দরপতন হয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৭৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ২৩৭টির। আর ৪২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের এ দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার আট পয়েন্টে অবস্থান করছে।
বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ এক পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৬৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক আট পয়েন্ট কমে এক হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মূল্যসূচক ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমলেও এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০৭ কোটি তিন লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৭১ কোটি ৬১ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৩৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি দুই লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইবনে সিনার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার লেনদেনে হয়েছে। ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে ওঠে এসেছে মুন্নু সিরামিক। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, স্টাইল ক্রাফট, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, ওয়াটা কেমিক্যাল, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটিসি এবং গ্রামীণফোন।
দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২২৮ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৫৮ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৫৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৮৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি শেয়ারের দাম।

সর্বশেষ..