দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

গ্রামীণফোনের বৃদ্ধিও পতন ঠেকাতে ব্যর্থ হলো

রুবাইয়াত রিক্তা: পতন দিয়ে শুরু হলো সপ্তাহের প্রথম দিনের লেনদেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় ৭৪ শতাংশ কোম্পানির দরপতনে লেনদেন কমেছে ১০২ কোটি টাকা। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৪ পয়েন্ট। গতকাল কোম্পানিগুলোর দরপতনের তুলনায় সূচকের পতনের হার তুলনামূলক কম ছিল। এর প্রধান কারণ ছিল গ্রামীণফোনের শেয়ারদর ও লেনদেনে উল্লম্ফন। তবে গ্রামীণফোনের একক দর বৃদ্ধি বাজারের পতন রোধে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল বাজারে লেনদেনে নেতৃত্ব দিয়েছে কোম্পানিটি। ৪৭ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি গ্রামীণফোনের দর বেড়েছে ২২ টাকা ৪০ পয়সা। আদালতের নির্দেশ মেনে বিটিআরসির কাছে গতকাল এক হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছে গ্রামীণফোন। আর এ খবরেই গতকাল চাহিদা বেড়ে যায় গ্রামীণফোনের শেয়ারের।

তবে বাকি সবগুলো খাতে ছিল দরপতনের আধিক্য। কোনো খাতই ভালো অবস্থানে ছিল না। ১৪ শতাংশ করে লেনদেন হয় বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন খাতে। বস্ত্র খাতে প্রায় ৭০ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। এ খাতের ভিএফএস থ্রেডের ১২ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে দেড় টাকা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে। সোয়া পাঁচ শতাংশ বেড়ে সোনারগাঁও টেক্সটাইল দর বৃদ্ধিতে অষ্টম অবস্থানে ছিল। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৫৬ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ওরিয়ন ফার্মার ২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দুই টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসে। ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে আট টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করে। শেয়ারটির সাম্প্রতিক দর বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। তাই বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির মৌলভিত্তি ও আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করে বিনিয়োগ করা উচিত। এদিকে সর্বশেষ প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ’১৯) তিন মাসে  কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ পয়সা কমেছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ছয় মাসের হিসাবে ইপিএস বেড়েছে তিন পয়সা। সোয়া পাঁচ শতাংশ বেড়ে বীকন ফার্মা দর বৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে। ১৩ শতাংশ লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ৭৯ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। বিএসআরএম লিমিটেডের ১২ কেটি ৬৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০ পয়সা। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে মাত্র দুই কোম্পানির দর বেড়েছে। সামিট পাওয়ারের সাড়ে ১৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় এক টাকা। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের দুই কোম্পানি গতকাল দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে সি পার্ল রিসোর্ট দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় ও সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়ে পেনিনসুলা চিটাগং পঞ্চম অবস্থানে উঠে আসে। এছাড়া কনফিডেন্স সিমেন্টের সাড়ে ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়; দর বেড়েছে পাঁচ টাকা। গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়; দর বেড়েছে এক টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..