সম্পাদকীয়

গ্রামীণফোনের সঙ্গেও বিরোধের অবসান হোক

বকেয়া রাজস্ব ফাঁকি নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর টানাপড়েন গণমাধ্যমের অনেকেই জানেন। গত বছরের ৩১ জুলাই গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে চিঠি দেয় বিটিআরসি। কয়েক দফা চেষ্টায় টাকা আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠানো হয় গ্রামীণফোন ও রবিকে। দাবি করা অর্থ পরিশোধে অসম্মতি বিরোধে পর্যবসিত এবং এটি আদালতে গড়ায়।

বিটিআরসির দাবি করা টাকার ওই অঙ্ক নিয়ে বরাবরই আপত্তি জানিয়েছে দুই অপারেটর। সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তিতে বিটিআরসি রাজি না হওয়ায় দুই কোম্পানি আদালতের শরণাপন্ন হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায় এবং হাইকোর্ট গত ৫ জানুয়ারি বিটিআরসির ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার নিরীক্ষা দাবির মধ্যে ১৩৮ কোটি টাকা কিস্তিতে পাঁচ মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন রবিকে।

অপারেটরগুলোর সঙ্গে এমন বিরোধ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অবস্থায় ইতিবাচক খবরের প্রত্যাশা করছিলেন তারা। বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হবেন তারা। হাইকোর্টের আদেশ মেনে প্রথম কিস্তি ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা মঙ্গলবার পরিশোধ করেছে রবি আজিয়াটা। এজন্য বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। দেশের আইন-কানুন মেনে ব্যবসা করতে হবে মন্তব্য করে মন্ত্রী রবির অর্থ পরিশোধকে ‘আইসব্রেকিং’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অবশ্য কিস্তির অর্থ পরিশোধের পরও রবি এক বিবৃতিতে বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক’ আখ্যায়িত করে ‘আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে’ জমা দেওয়া ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার আশার কথা বলেছে। এর আগে আপিল বিভাগ বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে গ্রামীণফোন তা দেয়নি, এক পর্যায়ে বড় অংশীদার নরওয়েভিত্তিক বহুজাতিক টেলিকম কোম্পানি টেলিনর রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চিঠি পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছেন, বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির টাকাগুলো জনগণের। রাষ্ট্রের নিয়ম, বিধি ও আইন মেনেই ব্যবসা করতে হবে।

গ্রাহক তথা সাধারণ মানুষেরও প্রত্যাশা, কোম্পানিগুলো বিধি ও আইন মেনে ব্যবসা করবে। কিন্তু রাষ্ট্রেরও উচিত, বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা দেওয়া। রাষ্ট্রের পাওনা ১২ হাজার কোটি টাকা একদিনে হয়নি। প্রতি বছর যথানিয়মে রাজস্ব আদায় হলে বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমা হতো না। সব দায় গ্রামীণফোনের নয়, বিটিআরসিরও আছে। তাই গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিরোধ নিরসনে এগিয়ে আসতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..