প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

গ্রামীণফোন থেকে অর্থ আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক:গ্রামীণফোনের কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি করা ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্র্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে ওই অর্থ আদায় করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বিচারপতি আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন।

আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন, শরীফ ভূঁইয়া ও তানিম হোসেইন। আর বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রায় ২৭টি খাতে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি করে গ্রামীণফোনকে গত ২ এপ্রিল চিঠি দেয় বিটিআরসি। এই চিঠির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গ্রামীণফোন নি¤œ আদালতে একটি মামলা করে। এরপর গত ২৮ আগস্ট নি¤œ আদালত গ্রামীণফোনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন না মঞ্জুর করেন। পরে ওই না মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন।

পরে ওই আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে দুই মাসের জন্য গ্রামীণফোনের কাছ থেকে টাকা আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৫ নভেম্বর এ মামলার আপিলের ওপর শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

এদিকে গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের পাওনা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ওই দুই মোবাইল অপারেটরে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বিটিআরসি। গত ৫ সেপ্টেম্বর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স বাতিলের নোটিস পাঠায় এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক জানান, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বেসরকারি টেলিফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং রবিতে আইন অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিটিআরসি। সরকারের অনুমতি পেলে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, গ্রামীণফোন ও রবিতে আলাদা দুই প্রশাসক বসানোর অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

জানা যায়, ওই দুই প্রশাসককে সহযোগিতা করতে আইন, প্রকৌশল ও আর্থিক বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরও তিনজন করে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের পাওনাকে কেন্দ্র করে বিটিআরসির বিরোধ মেটাতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠক হয়। যেখানে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও মোবাইল ফোন কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে চলমান বিরোধ সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়।

ওই বৈঠকে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয় এবং কমিটি গঠনের পর থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামীণফোন ১০০ কোটি টাকা ও রবি আজিয়াটা ২৫ কোটি টাকা বিটিআরসির অনূকুলে প্রদান করবে এবং পরবর্তী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে গ্রামীণফোন আরও ১০০ কোটি টাকা ও রবি আজিয়াটা আরও ২৫ কোটি টাকা বিটিআরসির অনুকূলে প্রদান করবে।

অবশ্য সরকারের পাওনার বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট রবি ও ২৬ আগস্ট গ্রামীণফোন ঢাকার দেওয়ানি আদালতে মামলা করে।

সর্বশেষ..