দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে মামলা করবে দুদক

ইস্টার্ন ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা অভিযুক্ত ইফতেখারুল কবিরের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের এফডিআরের ১৩ কোটি তিন লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর একটি দল ইবিএল বহদ্দারহাট শাখায় অভিযান চালায়। এ সময় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক প্রতিনিধি দল। এ বিষয়ে দুদক মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।
দুদক কার্যালয় জানায়, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) কর্মকর্তা ইফতেখারুল কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা গ্রাহকের চেক ইস্যু ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এফডিআরের ১৩ কোটি তিন লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে দুদকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। অভিযুক্ত ইফতেখারুল কবির বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংকের ওআর নিজাম রোড শাখার প্রায়োরিটি ব্যাংকিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
উল্লেখ্য, এ জালিয়াতির অভিযোগে গত ৭ আগস্ট ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দল তদন্ত শেষে চকবাজার ও চান্দগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ৮ আগস্ট নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে ইফতেখারুল কবিরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা করে। বিষয়টি দুদক তফসিলভুক্ত হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষের সাধারণ ডায়েরি গ্রহণের মাধ্যমে এজাহারভুক্ত মামলাগুলো দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ পাঠানো হয় এবং ব্যাংকটি দুদকে আরও তিনটি অভিযোগ করেন।
চট্টগ্রামের ইবিএলে কর্মরত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইস্টার্ন ব্যাংক ওআর নিজাম রোড শাখায় কণা দে নামের এক মহিলা এফডিআরের বিপরীতে ঋণ সুবিধা নিতে ব্যাংকে এলে জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পড়ে। ব্যাংকের ও আর নিজাম রোড শাখায় যোগদানের আগে ইফতেখারুল কবির চান্দগাঁও শাখায় কর্মরত ছিলেন। চান্দগাঁও শাখায়ও ব্যাপক জালিয়াতি করেছেন এ অভিযোগে থানায় জিডি করা হয়েছিল। ইফতেখার আরও কয়েকজনের সহায়তায় ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট টিম সর্বমোট কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা অনুসন্ধান করছে। ইফতেখার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি মামলা রেকর্ড করা হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপ-সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ বলেন, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপারে বহদ্দারহাট শাখায় গিয়ে বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কমিশনের অনুমতি পেলে মামলা করা হবে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..