Print Date & Time : 16 August 2022 Tuesday 3:15 am

ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের কাছে প্রণোদনা চান চাষিরা

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে যশোরের বোরো চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিপুল ক্ষতির বোঝা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সোনার ধানের অপূরণীয় ক্ষতিতে বিপর্যস্ত কৃষক। সেই সঙ্গে শ্রমিক সংকটে মাঠের অবশিষ্ট ধান এখনও ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। দেশে খাদ্য নিরাপত্তার বড় ভরসা বোরোর এমন ক্ষতির পর সরকারের প্রণোদনার সুযোগের দাবি জানিয়েছেন যশোর অঞ্চলের কৃষকেরা।

যশোর জেলায় মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৫ হেক্টর জমির বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি বিভাগের মতে, মোট ধানের আবাদ থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা। তবে অশনির ক্ষতির কারণে ৮০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন কম হবে। কৃষি বিভাগের এসব হিসেবের সঙ্গে একেবারেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা। তাদের দাবি যশোরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ধানও ঘরে তুলতে পারেনি কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কর দাস বলেন, অশনির প্রভাবে যশোরে বোরোর মোট আবাদের ৯৬৫ হেক্টর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি ধান এখন ঘরে তোলার তোড়জোড় চলছে। তিনি ক্ষতির কারণে এ বছর ৮০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন কম হতে পারে।

যশোর জেলা কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা যখন ক্ষতির বিষয়ে এমন দাবি করছেন, তখন মাঠের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে পানির মধ্যে চপচপ করছে পাকা ধান। এসব ধানের অধিকাংশই ধানের চারা বের হয়ে গেছে। অনেক ধানে কল বের হয়ে তা সবুজ আকার ধারণ করেছে।

যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক শামসুর রহমান বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত এক বিঘা জমির ধানও ঘরে তুলতে পারেননি তিনি। মাঠে এখনও ৫ বিঘা জমির ধান কেটে ফেলে রাখা আছে। বৃষ্টির পর এসব ধানের অধিকাংশই চারা বের হয়ে গেছে। এখন গত দুদিন রোদ ওঠার পর ফেলে রাখা ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, অশনির কারণে আমরা যে বিপর্যয়ের কবলে পড়েছি এ থেকে উত্তরণে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সরকার যদি আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা না করে তাহলে সামনে আমাদের কঠিন অবস্থায় পড়তে হবে।

এদিকে প্রতিবছর নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি গত ২০২০ সালে আম্পানের কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতিতে পড়ে। ওই সময়ে ঝড়ে যশোরে ১৩ জনের প্রাণহানিসহ ঘরবাড়ি, ফসল, গাছপালাসহ বিভিন্ন খাতে ২৮৩ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হলেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কর দাস বলেন, অশনির প্রভাবে যেসব কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তাদের একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে।