Print Date & Time : 30 June 2022 Thursday 2:05 am

ঘুষসহ গ্রেপ্তার বেবিচক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট

নজরুল ইসলাম: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তা এইচএম রাশেদ সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় (নম্বর ৫) তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার এটি অনুমোদন দেয়া হয়। দুদক সূত্র শেয়ার বিজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা সাক্ষ্য-স্মারক ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুদক আইন, ২০০৪-এর ৩২ ধারা এবং দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি ১-এর ক্ষমতাবলে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক তাহসিন মোনাবিল হক মামলাটি দায়ের করেন। ঘুষের ১ লাখ টাকাসহ রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর এইচএম রাশেদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশেদ সিভিল এভিয়েশনের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর ও কনসালট্যান্ট। পরে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিচালক জাহিদ কালামকে নিয়োগ করা হয়। তিনি তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে জমা দেন। মঙ্গলবার কমিশন চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিল।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুধু ২ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় দুই দফা বাণিজ্যিক পাইলট (সিপি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেননি সিভিল এভিয়েশনের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর ও সংস্থার কনসালট্যান্ট এইচএম রাশেদ সরকার। পরে বাধ্য হয়ে ২ কিস্তিতে ২ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজি হন এক পাইলট।

ঘুষের প্রথম কিস্তির ১ লাখ টাকা নিতে এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। দুদকের কাছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পাইলটের পূর্বের দেয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের পাতা ফাঁদে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় বসে ঘুষ নেয়ার সময় এ কর্মকর্তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গ্রেপ্তার করে।

সেই সময় দুদকের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, রাশেদ সরকার বিভিন্ন পাইলটের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে দেয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি পাইলটদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেন।

এক পাইলট দুদকের কাছে অভিযোগ করেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু ঘুষ না দেয়ায় তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নেয়া বাণিজ্যিক পাইলট (সিপি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছেন না রাশেদ।

উপরিচালক মাসুদ বলেন, পাইলটের অভিযোগÑএ পরীক্ষায় অংশ নিতে জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টরকে প্রত্যেক পাইলট কমপক্ষে ২ লাখ টাকা করে দিতে হয়। কিন্তু তিনি ঘুষ না দেয়ায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ দেয়া হয়নি। এরপর ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষায়ও পুনরায় কোনো ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় পাইলটকে সুযোগ দেয়নি। ৯ ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে ২ লাখ টাকা দিতেই হবে; অন্যথায় পাইলটকে এবারও বাণিজ্যিক পাইলট হতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিলে ওই পাইলট দুদকে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্সপেক্টর রাশেদকে ফাঁদ পেতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।