বিশ্ব সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় তাওকতের প্রভাবে ভারতে ছয়জনের মৃত্যু

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনার প্রকোপের মধ্যেই ভারতে হানা দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘তাওকত’। গতকালও করোনায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কর্ণাটকে চারজন ও কেরালায় দুজনের মৃত্যু হয়। খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার।

শনিবার রাতে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘তাওকত’ আঘাত হানে। গতকাল সকাল থেকেই মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক ও গুজরাট, অর্থাৎ ভারতের পশ্চিম উপকূলজুড়েই ঝড়ের আগাম প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উত্তাল হয়েছে সমুদ্র। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ ও দিউয়ের উপকূলবর্তী অংশে বিপুল বৃষ্টিপাত হবে। শুধু তাই নয়, কেরল ও তামিলনাড়– উপকূলেও সমুদ্রের বিশাল ঢেউ জানান দিচ্ছে ঝড়ের ভয়াবহতা।

এদিকে গতকাল গোয়ায় ঝড়ের প্রভাব বেড়েছে। উপড়ে গেছে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। বন্ধ হয়ে গেছে বহু রাস্তা। এছাড়া গোয়ার বেশ কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, এরই মধ্যে রাজ্যের ৭৩টি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে জেলাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি আমি, যাতে উদ্ধারকাজ ঠিকভাবে চলে।’

ভারতের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়, শনিবার রাত আড়াইটা নাগাদ এই ঝড়টি গোয়া থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার, মুম্বাই থেকে ৪৯০ কিলোমিটার ও গুজরাট উপকূল থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে গুজরাটে প্রবল বেগে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘তাওকত’। এরই মধ্যে আবহাওয়া অফিস দিউ উপকূলসহ গুজরাটের একাধিক এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৮টি হেলিকপ্টার ও ১৬টি পণ্যবাহী বিমান প্রস্তুত রেখেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। এরই মধ্যে খাবার সরবরাহ করেছে নৌবাহিনী। কেরালা, কর্ণাটক, গুজরাট, গোয়া ও মহারাষ্ট্রে একাধিক দল মোতায়েন করেছে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার সন্ধ্যায় একটি বৈঠক করেছেন। জনগণকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা, করোনা টিকা প্রভৃতির জন্য তিনি বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে বলেছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..