আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা বাণিজ্য সংবাদ সর্বশেষ সংবাদ সারা বাংলা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে জাহাজশূন্য চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানলে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, তাই চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিগুলো জাহাজশূন্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জেটিগুলোর ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেনও বুম আপ করা হয়েছে। গতকাল থেকে সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়।

আর বন্দরসীমানায় থাকা লাইটার জাহাজগুলো বাংলাবাজার থেকে শাহ আমানত সেতুর উজানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও সুপার সাইক্লোন আম্পানের কারণে আবহাওয়া অফিস চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্তকতামূলক সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সুপার সাইক্লোন আম্পানের কারণে আবহাওয়া অফিস পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে। আজ রাতে কিংবা আগামীকাল সকালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতের দিক সম্পর্কে জানা যাবে। দ্রুত সময়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাত হানার ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিগুলো জাহাজশূন্য করা হয়েছে।

পাশাপাশি বুম আপ করা হয়েছে ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেনও। গতকাল থেকে সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে সোমবার বিকাল ৪টা থেকে আজ (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্দরের জেটি থেকে ১৯টি জাহাজ আর বহির্নোঙরে থাকা ৫১টি বড় জাহাজ গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরসীমানায় থাকা লাইটার-কোস্টার ভ্যাসেলগুলো বাংলাবাজার থেকে শাহ আমানত সেতুর উজানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বন্দরের নিজস্ব টাগ ও নৌযানগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সংকেত অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে। এছাড়া তিনটি কনট্রোল রুম (নৌ বিভাগ: ০৩১-৭২৬ ৯১৬, পরিবহন বিভাগ: ০৩১-২৫১৭৭১১, সচিব বিভাগ: ০১৭৫১ ৭১ ৩০ ৩৭) খোলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের দিনের পোর্ট পারফরম্যান্স প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গতকাল বন্দরের বিভিন্ন জেটি, বিশেষ বার্থ ও আউটারে মোট জাহাজ ছিল ৭৯টি। এর মধ্যে ৪০টি জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার খালাস করা চলছিল।

আর ৩৯টি জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার খালাস করা হয়নি। এর মধ্যে কনটেইনার জাহাজ ১৫টি, অয়েল ট্যাংকার ১১টি, সাধারণ কার্গো জাহাজ পাঁচটি এবং ক্লিংকার জাহাজ রয়েছে আটটি। এছাড়া কনটেইনার ইয়ার্ডে মোট কনটেইনার ছিল ৪৪ হাজার ৫২৪টি।

বন্দরের কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে জেটিতে কোনো জাহাজ নেই। অর্থাৎ জেটিতে পণ্য খালাস বন্ধ। গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো ঝড়ো হাওয়ায় যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাই নিরাপত্তার জন্য বুম আপ করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টায় জেটির সর্বশেষ জাহাজটি বহির্নোঙরে নেওয়া হয়েছে, যদিও ইয়ার্ড ও ব্যাক আপ অপারেশন এখনো চলছে।

আর দুর্যোগ পরিস্থিতি অনুসারে বন্দর কর্তৃপক্ষ মোবাবিলা করা জন্য পদক্ষেপ নেবে।
এ বিষয়ে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুর রশিদ শেয়ার বিজকে বলেন, কয়েক দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় পণ্য পরিবহন অনেক কমে গেছে।

গতকাল দুপুর থেকে পুরোপুরিভাবে লাইটারিং বন্ধ। সব লাইটার জাহাজ নিরাপদ অবস্থানে আছে। এছাড়া গত এক মাস লাইটারের চাহিদা না থাকায় সাতশ’র মতো লাইটার জাহাজ অলস দিন পার করছে। গত মার্চ মাসে আমাদের এ খাতে ৩০০ কোটি টাকা লোকসান হয়। আর এপ্রিলে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান-সব মিলিয়ে আমরা ভালো নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে। আজ সকালের জেটি থেকে জাহাজ বর্হিনোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে জেটিতে জাহাজ হ্যান্ডলিং বন্ধ আছে। তবে ইয়ার্ডে কনটেইনার ডেলিভারি স্বাভাবিক আছে। আমরা সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি ও রপ্তানির ৯২ শতাংশ বাণিজ্যিক কার্যক্রম হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দরে গত জানুয়ারিতে বাল্ক ক্যারিয়ার ও কনটেইনার জাহাজ থেকে এক কোটি আট লাখ ৯৬ হাজার ৪৬৮ টন, ফেব্রুয়ারিতে ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৯ টন এবং মার্চে এক কোটি দুই লাখ ৬৪ হাজার ৪০২ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে জানুয়ারিতে কনটেইনার ও পণ্যবাহী জাহাজ আসে ৩৫৭টি, ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩৬৪টি এবং মার্চে আসে ৩৬৬টি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..