দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য সাক্ষাৎকার

চট্টগ্রামের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছি

চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, আবাসন সংকট, নতুন সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এসব প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম জহিরুল আলম দোভাষ। সম্প্রতি তার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ, আগামীর পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন শেয়ার বিজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইফুল আলম ও সাইদ সবুজ

শেয়ার বিজ: চট্টগ্রামের উন্নয়নে সিডিএ বড় ভূমিকা রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব আপনার হতে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আপনার ভাবনা পরিকল্পনা কী?

জহিরুল আলম: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে বেশ কিছু বড় প্রকল্প দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আর এ প্রকল্পগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করাই আমার লক্ষ্য। এছাড়া আমাদের পরিকল্পনায় আরও কিছু নতুন সড়ক করার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি পুরাতন ও সরুগুলো সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা। চলতি বছরে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমরা দীর্ঘমেয়াদি নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কাজ করতে যাচ্ছি।

শেয়ার বিজ: চলতি বছর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, লালখান হতে শাহ্ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কর্ণফুলীর পাশ দিয়ে সদরঘাট থেকে কালুরঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসহ বেশ কিছু বড় প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা অথচ এসব প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশের মতো ফলে বাড়তে পারে সময় ব্যয়, এর কারণ কী?

জহিরুল আলম: আন্তঃসংস্থা জটিলতা, জমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার জন্য কাজগুলো সঠিক সময়ে শুরু করা যায়নি। তাই প্রকল্প শুরু করতে সময় লেগেছে। বর্তমানে জটিলতাগুলো কেটে উঠেছি। আমি আসার পর বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা করে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তারপর গত জুলাই থেকে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এছাড়া সাগরিকা স্টেডিয়াম এলাকায় কিছু জায়গা আমাদের অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। সেখানে ইনডোর স্টেডিয়াম ছিল। তাদের অন্য জায়গায় ইনডোর স্টেডিয়াম করে দেওয়ার বদলে আমরা জায়গাটি অধিগ্রহণ করেছি। এ রকম বেশ কিছু সমস্যা ছিল। যেহেতু আমরা সময়মতো কাজ শুরু করতে পারিনি, তাই স্বাভাবিকভাবেই সময় বাড়াতে হবে। তবে ব্যয় মনে হয় বাড়বে না।

শেয়ার বিজ: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলীতে ড্রেজিং করছে ড্রেজিংকৃত এলাকাটি কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসছে অথচ আপনাদের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প খালের মুখে øুইসগেট বানানোর কথা ছিল, তা এখনও বসানো হচ্ছে; অর্থাৎ সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় হচ্ছে না ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতাসহ ড্রেজিংয়ের সুফল নিয়ে আশঙ্কা করা হচ্ছে কিন্তু কেন?

জহিরুল আলম: আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। এ সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক), পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বিআইডব্লিউটিএ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এছাড়া আমরা নিয়মিত সমন্বয় সভা করি। আর চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ব্রিগেড ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর পর একবারও সমন্বয় সভা হয়নি। তবে জাতির স্বার্থে অবশ্যই নিয়মিত সমন্বয় সভা হওয়া উচিত।

শেয়ার বিজ: সাম্প্রতিক সময়ে বায়েজিদে বাইপাস সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত পাহাড় কাটার জন্য ১০ কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হয় বিষয়ে বলুন

জহিরুল আলম: বায়েজিদে বাইপাস সড়ক নির্মাণে ১৯৯৫ সাল থেকে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ তিন-চার বছর আগে পাহাড় কাটা হয়েছে। আমি আসার পর পাহাড় কাটা হয়নি। তখন পাহাড় কাটার অনুমোদন সিডিএ নিজেই দিত, তাই এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। বর্তমানে আমি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুসারে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সড়কটির কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে, যা চলতি মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে। আর লাইট কেনা নিয়ে যে সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে, তা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শেয়ার বিজ: ভবন নির্মাণের জন্য সিডিএ অনুমোদন দেয়; কিন্তু সঠিক তদারকির অভাবে অনুমতি অনুসারে ভবন নির্মাণ হচ্ছে না এর কারণ কী?

জহিরুল আলম : বিষয়টি আমিও লক্ষ করেছি। আসলে সিডিএ’র ২০০’র মতো জনবল সংকট আছে। ১০ বছর ধরে সিডিএ’র জনবল নিয়োগ বন্ধ। ২০১০ সালে এক কর্মকর্তা নিয়োগের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করেন। পূর্বে দায়িত্বরতরা মামলাটি নিষ্পত্তিতে সেভাবে কাজ করেননি। এমনকি সে মামলার কাগজপত্রও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মামলাটি এখনও ঝুলে আছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য। এটি শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনালে রয়েছে। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালত শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনালকে আদেশ দিয়েছেন। আশা করছি জনবল নিয়োগের জটিলতার অবসান হবে।

শেয়ার বিজ: সিরাজউদ্দৌলা রোড হতে শাহ আমান ব্রিজ পর্যন্ত সংযোগ সড়কে কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালে কিন্তু সড়কটির কাজ এখনও ঝুলে আছে, এর কারণ

জহিরুল আলম: এর কাজও অনেকটা শেষ হয়েছে। কিন্তু সড়কটি নির্মাণের সময় ভূমি অধিগ্রহণ এলাকার একটি ১০ তলা ভবন পড়ে। ওই ভবনের মালিকের সঙ্গে আইনি জটিলতায় সমস্যা হয়। বর্তমানে তা সমাধান হয়েছে।

শেয়ার বিজ: শুরু হয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ এর মধ্যে নকশা পরিবর্তন করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ আপত্তি দিয়েছে একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও মেট্রোরেল করার পরিকল্পনা করছে যেহেতু চট্টগ্রামে একটি মাত্র মূল রাস্তা, সে ক্ষেত্রে সমন্বয় না করলে বড় ধরনের জনভোগান্তির সৃষ্টি হবে আপনার বক্তব্য কী?

জহিরুল আলম: আমরা বিকল্প রাস্তা করেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করব। এক্ষেত্রে আমরা বড়পোল এক্সেস রোড ব্যবহার করব। তাছাড়া আউটার রিং রোডও ব্যবহার করা হবে। তবে সিটি করপোরেশন মেট্রোরেল করবে বলে মনে হয় না। যদি করেও, তবে আমি বলবÑ চট্টগ্রাম যেহেতু পাহাড়ি এলাকা, ব্যয় বেশি হলেও মাটির নিচ দিয়ে মেট্রোরেল করা ভালো হবে।

শেয়ার বিজ: এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোডের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা সি বিচ এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার ওয়েব প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণসহ পার্কিং ব্যবস্থা ও বিনোদন কেন্দ্র করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই এখানে ফাটলসহ রাস্তা ধসে পড়তে দেখা যায়, এর কারণ কী?

জহিরুল আলম: বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি তারা রিপোর্ট জমা দিলে তারপর ব্যবস্থা নিতে পারব

শেয়ার বিজ: চট্টগ্রামে কোনো ট্রাক টার্মিনাল নেই। সিডিএ’র দুটি টার্মিনাল করার কথা ছিল। সেগুলোর কি অবস্থা?

জহিরুল আলম: ট্রাক টার্মিনালগুলো আমাদের করার কথা থাকলেও পরবর্তীকালে সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে কী অবস্থা জানি না। আর তারা যদি না করে, তবে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

শেয়ার বিজ: সিডিএ কয়েকটি আবাসিক এলাকা করেছে কিন্তু সেসব আবাসিকে সুযোগসুবিধা না থাকায় বরাদ্দপ্রাপ্তরা এখনও ব্যবহার করছেন না বিশেষ করে সিডিএ প্রথম আবাসিক এলাকার সলিমপুর প্লট মালিকরা ভবন নির্মাণ না করায় এখনও খালি পড়ে আছে, এর কারণ কী?

জহিরুল আলম: কিছুদিন আগে সলিমপুর আবাসিক এলাকার প্লট মালিকরা এসেছিলেন। তারা বলেছেন ভবন নির্মাণ শুরু করবেন। আর সমস্যা থেকে থাকলে অবশ্যই সমাধানও হবে। কিন্তু আগে তো বাড়ি বানানো প্রয়োজন। এছাড়া অন্য আবাসিকগুলোয় পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সুন্দর আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে।

শেয়ার বিজ: আপনাকে ধন্যবাদ

জহিরুল আলম: শেয়ার বিজকেও ধন্যবাদ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..