প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

চট্টগ্রামে উড়োজাহাজ ওঠানামা ১৪ ঘণ্টা বন্ধ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা ১৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বরিশাল, যশোর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে কাজ বন্ধ নেই বলে বিমানবন্দরগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে। এছাড়া সোম ও মঙ্গলবারের জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।

গতকাল মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল; এজন্য সমুদ্রবন্দরগুলোকে মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বিকাল থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘শনিবার বিকাল ৪টা থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। বিকল্প হিসেবে সিলেট বিমানবন্দর রাতে খোলা থাকবে।’ সাধারণত রাতে সিলেট বিমানবন্দর বন্ধ থাকে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিমানবন্দর রাতে খোলা থাকবে।

এ কর্মকর্তা জানান, যশোর, কক্সবাজার, বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ওই এলাকার স্থানীয় আবহাওয়া বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সময়ে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধসহ সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সারোয়ার ই জামান। 

বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক রথীন্দ্রনাথ চৌধুরী বলেন, আমাদের এয়ারপোর্ট ওপেন রয়েছে। কেউ যদি ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায়, বাধা নেই। যশোর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মাসুদুল হক বলেন, উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। সকাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি উড়োজাহাজ ওঠানামা করেছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ নেই।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ফেরি চলাচলে এখনও তেমন অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুল আলিম মিয়া বলেন, ফেরি চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। পদ্মা নদী খুব একটা উত্তাল নয়, তাই ফেরি চলছে। পরবর্তীকালে বন্ধ রাখার নির্দেশ এলে বন্ধ করা হবে।

কাঁঠালবাড়ী লঞ্চঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত লঞ্চ-স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে।

সং?শ্লিষ্টরা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পদ্মা নদী কিছুটা উত্তাল হয়ে ওঠায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গতকাল বেলা ১২টার পর থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট  চলাচল পু?রোপু?রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ১১ নভেম্বর সোমবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের এ তথ্য জানান।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবারের জেএসসি পরীক্ষা বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। ১১ নভেম্বরের জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ নভেম্বর সকাল ১০টায়। সোমবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের জেএসসির বিজ্ঞান ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের জেডিসির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয় শনিবারের জেএসসি ও জেডিসির গণিত পরীক্ষা। ৯ নভেম্বরের জেএসসির স্থগিত পরীক্ষা ১২ নভেম্বর এবং জেডিসির স্থগিত পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর হবে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গতকাল সন্ধ্যানাগাদ সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে। সেজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে উপকূলজুড়ে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। সব ধরনের ছুটি বাতিল করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। জেলাগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওয়াটার রেসকিউ টিম, ফাস্টএইড ও সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের যাবতীয় খবরাখবর সংগ্রহ এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে চারটি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এগুলোর ফোন নম্বর: ঢাকা ০২-৯৫৫৬৭৫৪, ০১৭১৩০৩৮১৮১; চট্টগ্রাম ০১৭৩০৩৩৬৬৬৬; খুলনা ০১৭৩৩০৬২২০৯ ও বরিশাল ০১৯৮৩৮৮৬৬৭৭।

অন্যদিকে, উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত হানার পূর্বাভাস পেয়ে দুর্গত এলাকাগুলোয় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোয় এক হাজার ৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে প্রস্তুতি সাজানো হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এরই মধ্যে মেডিক্যাল অফিসার, সহকারী সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর ও অন্যান্য কর্মচারীকে নিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোয় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে চার হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। মেডিক্যাল টিমগুলো এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে ওষুধের মজুত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। দুর্গত এলাকায় গর্ভকালীন ও জরুরি প্রসূতি সেবার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। দুর্গত জেলাগুলোয় স্বাস্থ্য বিভাগ পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ অপারেশনাল প্ল্যানের জরুরি প্রস্তুতি কর্মসূচি সার্বিক বিষয় সমন্বয় করছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..