দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

চট্টগ্রামে ঋণখেলাপির মামলায় শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক

২০১৯ সাল

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: সদ্য গত ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি পাওনা আদায়ে ৫৬৬টি মামলা করে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক খেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০৮টি মামলা করে। এসব গ্রাহকের বেশিরভাগের কাছেই পাওনা এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে ৫৬৬টি মামলার বিপরীতে খেলাপি পাওনার পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক বড় বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে ব্যাংকের মামলার বেশিরভাগই এসএমই খাতের গ্রাহকদের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে প্রায় সবগুলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি পাওনা আদায়ে মোট ৫৬৬টি মামলা করে। এসব মামলার বিপরীতে খেলাপি ঋণের পাওনার পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক ১০৮ খেলাপি গ্রাহকের কাছে পাওনা ১০ কোটি টাকারও কম। এসব মামলার সবগুলোই ব্যাংকটির এসএমই গ্রাহক।

এদিকে গত বছর চট্টগ্রামে খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটি চট্টগ্রামের ৮৯টি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে। একইভাবে তৃতীয় অবস্থানে ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড। এটি ৪৫ খেলাপি গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করে। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক ২৮ খেলাপি গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটি ২৭ খেলাপি গ্রাহকের বিরুদ্ধে করে অর্থঋণ আদালত চট্টগ্রামে।

যদিও ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ ছিল সাউথইস্ট ব্যাংকের। ব্যাংকটি চট্টগ্রাম জেলায় ১০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে, যার বিপরীতে পাওনা প্রায় ৮৬৯ কোটি টাকা। একইভাবে খেলাপি ঋণের অর্থমূল্য দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির ৯টি খেলাপি গ্রাহকের কাছে পাওনা ৫০৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এদিকে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের বন্ধকি সম্পদ নিলামে বিক্রয়ের জন্য ২০০-এর অধিক নিলাম অনুষ্ঠান আয়োজন করে গত বছর। কিন্তু এসব নিলামে পায়নি কোনো আগ্রহী ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক প্রয়োজনের বিভিন্ন সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ না করে খেলাপি হয়ে পড়ে। এসব খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেও মিলছে না ঋণ ফেরত পাওয়ার প্রয়োজনীয় আশ্বাস। আবার অনেক ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সরাসরি দেখা দিচ্ছেন না। এছাড়া খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলেও তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও কেউ কেউ আবেদন করলেও দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট জমা দেয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে খেলাপি ঋণের দায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৫৯৯টি মামলা করেছিল। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৬৮টি ও ২০১৬ সালে ৭৪৪টি। অর্থাৎ গত কয়েক বছর ধরে খেলাপি ঋণের বিপরীতে মামলার সংখ্যা কমছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..