Print Date & Time : 12 August 2022 Friday 12:47 am

চট্টগ্রামে ছোট বাহনে বাড়ছে যানজট

 

 

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের রাস্তায় চলাচল করা গাড়ির মধ্যে ৯২ শতাংশই ছোট আকৃতির। এসব গাড়ি যাত্রীপরিবহন করে মাত্র ৩০ শতাংশ। আর তাদের খেয়াল-খুশিমত পরিবহনের কারণে নগরে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চিটাগাং স্ট্র্যাটেজিক আরবান ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান শীর্ষক এক কর্মশালায় এমন তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক।

নগরীর গনি বেকারির মোড় থেকে কাজির দেউড়ি পর্যন্ত সীমাহীন যানজটের আটকা থাকে নগরবাসী। পাশাপাশি দুই নম্বর এলাকা থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত দিনের অধিকাংশ সময় যানজটে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। চকবাজারের কাঁচাবাজর মোড়, আন্দরকিল্লা মোড়, অক্সিজেন মোড়, বহদ্দারহাট মোড়সহ শহরের বিভন্ন স্থানে ব্যাপক যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। একই অবস্থা বিমানবন্দর সড়কের সল্টগোলা ক্রসিং, বারিক বিল্ডিং মোড়, আগ্রাবাদের বাদামতলী ও চৌমুহনী মোড়, জিইসি মোড়, জাকির হোসেন সড়ক, মুরাদপুর মোড়, কর্ণফুলী সেতু মোড়, চাক্তাই খাতুনগঞ্জের প্রবেশমুখ ও পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোড।

তবে বর্তমানে পুরো নগরীই দিনের বেশিরভাগ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। আর এসব যানজটের কারণ লক্ষ্য করা যায়, চালকদের ট্রাফিক আইন না মানা, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, স্কুলগুলোর নিজস্ব বাস সার্ভিস না থাকা, পর্যাপ্ত ফুটপাত না থাকা, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোর পার্কিংয়ের স্থান না থাকা, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম না থাকা, ট্রাফিক পুলিশের জনবল সংকট, ট্রাফিক বিভাগের স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল না থাকা, মার্কেটগুলোয় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা, সড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল ও সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি।

নগরের যানজট নিরসনে সিডিএ’র সহযোগিতায় বিশ্বব্যাংক নগরের কৌশলগত পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। বর্তমানে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মহাপরিকল্পনা নিয়ে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ-সংক্রান্ত এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরের রাস্তায় চলাচল করা গাড়ির মধ্যে ৯২ শতাংশই ছোট আকৃতির (রিকশা, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি)। এসব গাড়ি যাত্রীপরিবহন করে মাত্র ৩০ শতাংশ। আর তাদের খেয়াল-খুশিমত পরিবহনের কারণে নগরে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বাকি ৭০ শতাংশ যাত্রীপরিবহন করে গণপরিবহন। অথচ মোট গাড়ির মাত্র আট শতাংশ গণপরিবহন।

সড়ক ও নগর বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বব্যাপী নগর পরিবহন ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে চলার জন্য প্রধান সড়কগুলোয় ছয় ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়। এগুলো হচ্ছেÑবাস বে (বাস থামার জন্য রাস্তার পাশে অতিরিক্ত স্থান), নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ থাকা, পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুটপাত থাকা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত বাতি, যথাযথ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সড়কবাতি থাকা। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রধান সড়কগুলোয় এসব সুবিধা না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়ছে নগরবাসী।

বুয়েট অধ্যাপক শামসুল হক জানান, চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নগরের মোড়গুলোয় গাড়ি থামিয়ে যাতে যাত্রী ওঠানামা করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। গণপরিবহনগুলো যথাযথ সেবা দিতে পারছে না, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালু করলে মানুষ গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহী হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ শিগে সাকাকি জানান, নগরের পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে জরিপ কার্যক্রম চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এর ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার জানান, মহানগরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। আর ফুটপাত যেন কেউ দখল বা ব্যবহার করে ব্যবসা করতে না পারে, এ নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। সড়কে আধুনিক সিগন্যাল বাতি চালু করা হবে। তবে জনবল সংকটে অনেক সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করা যায় না।