প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রামে পাইকারিতে বেড়েছে চিকন চালের দাম, কমেছে মোটার

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: নতুন চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে তেমন প্রভাব নেই। চিকন চালের দাম প্রতিদিন বাড়ছে আর মোটা ও সেদ্ধ চালের বাজার কমতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমান চালের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বাজারদর ২০০৮ সালে তত্ত্বাধায়ক সরকারের আমলের সমপর্যায়ে। গত চার মাসে অব্যাহত দর বাড়ার কারণ প্রত্যাশানুসারে বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান অধিকাংশ ব্যবসায়ী। তবে কিছু দিন ধরে বাজারে মোটা চাল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৩২ টাকায়, যা আগে ৩৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে চার টাকা। তবে খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। গতকাল শহরে বিভিন্ন খুচরা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়। তবে মিনিকেট ও লতাস্বর্ণা চালের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। কারণ এ দুই জাতের চাল বাজারের সরবরাহ কম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন চাল বাজারে পর্যাপ্ত, কিন্তু চাহিদা কম। ফলে নতুন চালের দর স্তিতিশীল থাকলেও পুরোনো চালের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি বাজারের মজুদ ও সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে প্রতিদিন  বস্তাপ্রতি ৫০ হতে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি বছরজুডে মোটা চালের সরবরাহ কম ছিল। এছাড়া সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ বাড়ায় এবং আমদানিতে ট্যাক্স বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির দামে প্রভাব পড়ে। ফলে মোটা চালের দর অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে আছে। আলিফ ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপক বলেন, বাজারে আমন মৌসুমের চাল সরবরাহ বৃদ্ধি এবং চাহিদায় মন্দাভাবের কারণে মোটা চালের দাম কমতে শুরু করেছে।

চাক্তাই আড়তদার রহিম উল্লাহ বলেন, বর্তমান বাজারে আমন মৌসুমের চাল সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি এ নতুন চালের চাহিদা মন্দা থাকায় দাম স্থিতিশীল আছে। কিন্তু বিভিন্ন জাতের পুরোনো চালের দাম সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে গত বোরো মৌসুমের বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। ফলে মোটা চালের দাম এখন কমতির দিকে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম কমেছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা। পণ্যটির দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।

পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার খুচরা বিক্রেতা মানস পাল বলেন, প্রতিদিন  বাজারের চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা তা বুঝতে চায় না। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে অতিরিক্ত বাক্য বিনিময় করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, আমনের ভরা মৌসুমেও দেশের মিল মালিকরা চালের দাম বাড়ান। ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে তা বড় বড় মিল মালিকদের কব্জায় চলে যায়। তবে তারা সেগুলো বেশি দিন মজুদে রাখেন না। শুধু সরকারকে সরবরাহ দিতে মিল মালিকরা এ চাল সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের মিলগুলো প্রায় সব ধরনের ধান-চাল মজুদ রাখে। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার আমন মৌসুমে মোটা চাল প্রতি কেজি ৩৪ টাকায় কিনবে, এমন কথা বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় মৌসুমের শুরুতেই এর দাম বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা চাল সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। চালের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর আমন মৌসুমের শুরুতে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৪ থেকে ২৫ টাকা। এ বছর তা কেজিতে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের খুচরা বাজারগুলোয় মোটা চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। আর জিরাশাইল আতপ কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা, স্বর্ণা কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা,  নাজিরশাইল কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, গুটি স্বর্ণা কেজিপ্রতি ৪৪ টাকা, দুধ কলম কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা, জিরা মিনিকেট কেজিপ্রতি ৪৬ টাকাসহ বিভিন্ন প্রকারের চাল রয়েছে। এর মধ্যে বিআর-৩৫, হাসকিসহ মাঝারি মানের চাল ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, আর মোটা ধরনের চাল স্বর্ণা ও গুটি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে।